চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির গতি বাড়াতে জমি সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা আগামী এক মাসের মধ্যে মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্ন সভা ঘরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে যেখানে যেখানে রেল প্রকল্পের জন্য জমি জট রয়েছে তা দূর করে রেলের হাতে জমি হস্তান্তর করতে হবে।বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, রেল প্রকল্পের জন্য জমি সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে কেন অমীমাংসিত রয়ে গিয়েছে। জেলাশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে কলকাতা মেট্রোর জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্প। খিদিরপুর এলাকায় জমি সমস্যার কারণে প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতার মেট্রো প্রকল্পগুলি দ্রুত সম্পূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।বৈঠকে রেলের সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায়ও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, তিনি জানান, যারা রেলের সম্পত্তি নষ্ট করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এই বিষয়ে আইন প্রণয়নের জন্য বিধানসভায় বিলও আনা হতে পারে।অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম অঞ্চলে প্রস্তাবিত রেল প্রকল্প নিয়েও রেলমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী। জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে পৃথকভাবে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।বৈঠকে বাংলায় রেল শিল্পের সম্প্রসারণের দাবিও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। কাঁচরাপাড়া ও খড়গপুরের রেল কারখানাগুলির সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন রেলভিত্তিক শিল্প স্থাপনের আবেদন জানান তিনি।
তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রায় ২ কোটি শিক্ষিত বেকার এবং ১ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। নতুন শিল্প ও কারখানা গড়ে উঠলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেল শিল্পের প্রসার শুধু প্রত্যক্ষ চাকরিই সৃষ্টি করবে না, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাংলায় বৃহৎ রেল বিনিয়োগ এলে রাজ্যের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে বলেও তিনি আশাবাদী।