চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পৌষের হাড়কাঁপানো শীত মানেই বাঙালির কাছে নলেন গুড়, পিঠে-পুলি আর অবশ্যই সার্কাস। তবে আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে সার্কাস এখন কিছুটা ম্লান হলেও, চুঁচুড়ার বাঘাযতীন মাঠে এবারের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন হুগলির পান্ডুয়ার এক লড়াকু শিল্পী মহম্মদ রসিদ। কোনও ম্যাজিক নয়, স্রেফ যোগব্যায়ামের কৌশলে বালতি ভরা জল খেয়ে নেওয়া কিংবা জ্যান্ত শিঙি মাছ গিলে আবার পেট থেকে জীবন্ত বের করে আনার অদ্ভুত খেলা দেখিয়ে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন তিনি (Mohammad Rashid)।
পান্ডুয়ার বাসিন্দা রসিদের রক্তেই সার্কাস। মা লায়লা বিবি ও বাবা রফিক আলম কুরেশি—উভয়েই এই বিচিত্র খেলা দেখাতেন। তাঁদের কাছেই মাত্র তেরো বছর বয়সে এই কঠিন শিল্পের হাতেখড়ি রসিদের। তাঁর দাবি, “এর মধ্যে কোনো জাদু নেই, সবটাই দীর্ঘ দিনের অভ্যাসের ফসল ও যোগব্যায়ামের কারসাজি।” পেট থেকে রঙিন জল আলাদা করে বের করে আনা কিংবা শিঙি মাছের প্রাণ বাঁচিয়ে গিলে ফেলা—সবই শরীরের ওপর অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ।
তবে এই শিল্প মোটেই সহজ নয়। শিঙি মাছের কাঁটা বা মাছটি শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার প্রবল জীবনহানি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রসিদ জানান, এই খেলা দেখানোর জন্য সারাদিন তাঁকে উপবাসে থাকতে হয়। তিনটি শো শেষ করে তবেই রাতে তাঁর অন্নের সংস্থান হয়। এই শারীরিক কষ্টের ভয়েই নতুন প্রজন্মের কেউ আর এই শিল্প শিখতে চাইছে না। অথচ এই অসামান্য প্রতিভার জোরেই রসিদ এক বছর উজবেকিস্তানের তাসখন্দে খেলা দেখিয়ে নাম কুড়িয়েছেন (Mohammad Rashid)।
আগেকার মতো সার্কাসে এখন আর বন্যপ্রাণী নেই, মূলত জিমনাস্টিক আর রসিদের মতো মানুষের শৈল্পিক দক্ষতাই এখন মূল ভরসা। তবে টারজান সার্কাসের ম্যানেজার মোল্লা সাদিক রহমানের গলায় আশঙ্কার সুর। তাঁর মতে, উপযুক্ত মাঠের অভাব এবং পশুদের খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে দর্শকসংখ্যা কমছে। শনিবার ও রবিবার চুঁচুড়ার মাঠে ভিড় হলেও সার্কাস শিল্প যে ক্রমশ ইতিহাসের পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
রসিদও মনে করেন, সার্কাসের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তবু হাজারো জীবনের ঝুঁকি আর দারিদ্র্যের মোকাবিলা করেও এই অদম্য শিল্পী চান সার্কাসের জাদুময় শৈলী যেন মানুষের মনে বেঁচে থাকে (Mohammad Rashid)।