চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: সমস্ত টালবাহানা, আইনি জট এবং দলীয় অন্দরের তীব্র ফাটলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবশেষে কলকাতার রাজপথে নামলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে (Y-Channel) শুরু হল তৃণমূলের বহুচর্চিত মেগা ধর্না কর্মসূচি। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে অনুমতি না মিললেও, শেষমেশ ওয়াই চ্যানেলেই দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টার জন্য ধর্নার অনুমতি দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। আর সেই মঞ্চে পা রাখতেই রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলনেত্রী। ভরা এজলাসে দাঁড়িয়ে সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি তোপ দাগেন, “দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত চলছে। তবে আমি বেঁচে থাকতে সেই চেষ্টা কোনোদিন সফল হবে না, সব চক্রান্ত বানচাল করে দেব। বেআইনিভাবে আমাদের বিধায়ক, কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”
মঙ্গলবার দুপুর ২ টো নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরোন মমতা। তবে প্রথমে ধর্নামঞ্চে না গিয়ে তিনি সরাসরি পৌঁছে যান রেড রোডে। সেখানে ড. বিআর অম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেনরা। সেখান থেকে সোজা চলে আসেন ওয়াই চ্যানেলে। নেত্রীকে দেখামাত্রই চারদিক থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলতে শুরু করেন দলের কর্মীরা। শয়ে শয়ে কর্মী-সমর্থকদের চিৎকারে বক্তৃতার মাঝে বারবার থামতেও হয় মমতাকে। মঞ্চে একে একে এসে হাজির হন ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অশোক দেবের মতো প্রবীণ নেতারা।
মঙ্গলবারের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ধর্মতলা চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায়। মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও মহিলা পুলিশ। তবে এই অনুমতি পাওয়া নিয়ে পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় ইমেল পাঠিয়ে পুলিশ বলছে ওয়াই চ্যানেলে বসার জন্য নতুন করে অনুমতি নিতে হবে! এটা কি রসিকতা? আগে কেন বলেনি? আসলে এরা বিরোধী স্বরকে গায়ের জোরে দমে দেওয়ার চেষ্টা করছে।” একই সুর শোনা গিয়েছে কুণাল ঘোষের গলাতেও।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য এই ঘটনার মধ্যে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সমাপতন দেখছেন। অতীতে যখন রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকাল ছিল, তখন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও যেকোনো সভা-সমাবেশ করতে গেলে এভাবেই পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হতো। প্রতিবারই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অনুমতি আনতে হতো বিজেপিকে। আজ ক্ষমতা বদলের পর সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বাংলায়, যেখানে তৃণমূলকে রাস্তায় নামতে পুলিশের শর্ত মেনে চলতে হচ্ছে।
গত রবিবারই দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন অনুপস্থিত থাকায় তৃণমূলের ফাটল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সই জাল কেলেঙ্কারি নিয়ে সিআইডি তদন্তের গুঁতোয় ব্যাকফুটে থাকা দলটিকে চাঙ্গা করতেই এদিন সকালে মদন ও দোলার সঙ্গে বৈঠক করে রাজপথে নামার মরণপণ লড়াই শুরু করলেন মমতা। দল ভাঙার এই মহাসঙ্কটে মমতার এই ধর্না আন্দোলন আগামী দিনে বঙ্গে কোন নতুন রাজনৈতিক ঝড় তোলে, সেটাই এখন দেখার।