চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর এক মাসও কাটেনি, তার মধ্যেই কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। একসময়ে যে সমস্ত অনুগামী ও দাপুটে নেতারা নেত্রীকে উপগ্রহের মতো ঘিরে থাকতেন, আজ তাঁদের সিংহভাগই নাম লিখিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে। এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে দল ও অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য এবার নিজেই ময়দানে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, নব্য তৃণমূলের এই জোয়ার রুখতে এবং নিজের ঘর গোছাতে একাধিক ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ককে নাকি ইতিমধ্যে নিজেই সরাসরি ফোন করেছেন মমতা।
বিশেষ সূত্রে খবর, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের একাধিক জয়ী বিধায়ককে বৃহস্পতিবার ফোন করেছেন তৃণমূলনেত্রী। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এঁদের মধ্যে অনেকেই বুধবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য বিধানসভায় গিয়ে চাবি নেওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। ফোনে ক্ষুব্ধ বিধায়করা সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য নিয়ে কোনও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবার নিজের কালীঘাটের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মমতা। সেই বৈঠকেই বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানাতেই এই ফোন। তবে শেষ পর্যন্ত ক’জন বিধায়ক কালীঘাটের চৌকাঠ পার করবেন, তা নিয়ে খোদ আদি তৃণমূল শিবিরের অন্দরেই তৈরি হয়েছে চরম সংশয়। কারণ, এর আগে মমতার ডাকা একাধিক দলীয় কর্মসূচিতে সিংহভাগ বিধায়ককেই গরহাজির থাকতে দেখা গিয়েছে।
অন্যদিকে, বিধানসভার অফিশিয়াল বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর একটুও সময় নষ্ট করতে রাজি নন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারই তিনি ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে রাজ্য বিধানসভার অন্দরে এক মেগা রণকৌশল বৈঠক সারেন। বুধবারই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে গঠনমূলক বিরোধিতা চলবে।
এদিনের বৈঠকের পর রাজ্যজুড়ে তাঁদের অনুগামী ও দলীয় কর্মীদের ওপর হেনস্তার অভিযোগ জানাতে এক প্রতিনিধি দল নিয়ে সোজা রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG)-র দ্বারস্থ হন ঋতব্রত। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহার মতো হেভিওয়েট নামগুলি। জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ সন্দীপন সাহার বাড়িতে গিয়ে এক বিশেষ বৈঠক করবেন ঋতব্রত। ঠিক একই সময়ে কালীঘাটে মমতার বৈঠকও হওয়ার কথা। ফলে, শুক্রবারে মমতার ডাকা বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কতজন বিধায়ক হাজিরা দেন, আর কতজন ঋতব্রতর শিবিরে অটুট থাকেন, সেদিকেই এখন চাতক পাখির মতো নজর রাখছে গোটা রাজ্য রাজনীতি।