চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে অনুমতি না মেলায় শেষমেশ ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে (Y-Channel) বসেই নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জেহাদ ঘোষণা করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনের তরফে ধরনামঞ্চে মাইক ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায়, এদিন কার্যত খালি গলায় ও ‘হ্যান্ড মাইক’ হাতে নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখান থেকেই দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব ও রাজ্যের নতুন শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে জায়েঙ্গে (যদি বেঁচে থাকি, বিজেপিকে সরাবই)।” মঙ্গলবার দুপুর থেকেই ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের এই ধরনা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ ছিল তুঙ্গে। বক্তব্য রাখতে উঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কাউন্সিলর, বিধায়ক ও তৃণমূলের সাধারণ প্রার্থীদের বেআইনিভাবে ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি। তাঁর কথায়: “দিল্লি থেকে বিজেপি সরকার কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়ার এবং দল ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, এই চেষ্টা আমরা কোনওভাবেই সফল হতে দেব না, সব চক্রান্ত বানচাল করে দেব।”
পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমি কারও সুদিনে পাশে না-থাকলেও, দুর্দিনে সবসময় আছি। বিজেপি বাদে দেশের বাকি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। এমনকি বিজেপিরও যাঁরা অতীতে আমার সাহায্য চেয়েছেন, আমি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।” গত শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া হামলার প্রসঙ্গ টেনে এদিন অত্যন্ত বিস্ফোরক দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর রক্তাক্ত অভিষেককে যখন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন চিকিৎসার ক্ষেত্রেও চরম অসহযোগিতা করা হয়েছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “অভিষেককে ওই ছোট গলির ভেতর প্ল্যান করে মারা হয়েছিল। মাথায় হেলমেট না থাকলে পাথরটা সরাসরি ওর মাথায় লাগত। আর যখন সিরিয়াস অবস্থায় ওকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, তখন বলা হচ্ছে সিইও (CEO)-র অনুমতি লাগবে! আসলে নতুন সরকারের পুলিশ ওই বেসরকারি নার্সিংহোমকে থ্রেট (হুমকি) করছিল। পরে যখন ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হলো, তখন হাসপাতালের সিইও স্বয়ং আমার কাছে এসে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন। আমার সঙ্গে তখন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন। সিইও আমাদের বললেন— ‘মাফ করবেন, আমরা আর ওপরতলার চাপ নিতে পারছি না। আমাদের মারাত্মক ভয় দেখানো হচ্ছে’।” এদিন ধরনার অনুমতি না দেওয়া এবং শেষ মুহূর্তে স্থান বদল করা নিয়ে পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে মাইক লাগানোর পারমিশন দেওয়া হয়নি। তাই হ্যান্ড মাইক নিয়েই বলতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে কি আমাকে আটকে রাখা যাবে? যেখানে আটকাবে, আমি সেখানেই রাস্তায় বসে পড়ব।”