ad
ad

Breaking News

Mamata Banerjee

অভিষেকের উপর হামলার প্রতিবাদে স্তব্ধ হবে বাংলা! সোমবার ব্লকে ব্লকে বিক্ষোভ কর্মসূচি তৃণমূলের

ডিম-পাথর বৃষ্টির পর এবার রাজপথে মেগা অ্যাকশন! সুপ্রিমোর ধরনার আগে রাজ্যজুড়ে শুরু তৃণমূলের গর্জন

Mamata Banerjee Dharna at Rani Rashmoni Road Approved TMC Block Protests

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ এবার আকাশ ছুঁল। শনিবার সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া নজিরবিহীন হামলার প্রতিবাদে এবার রাজ্যজুড়ে অচল করার ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার কালীঘাট থেকে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করে দলের এই মেগা কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, অভিষেকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে আগামী সোমবার রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ব্লকে তীব্র প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। পাশাপাশি, আগামী ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি রোডে পূর্বঘোষিত ধরনা কর্মসূচিতে বসবেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জামা ছিঁড়ে ডিম-বৃষ্টি, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

দিনকয়েক আগেই তৃণমূলের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, শনিবার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেখানে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা। অভিষেককে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ডিম ও ইটের টুকরো ছোঁড়া হয়, ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এমনকী, ধস্তাধস্তিতে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের গায়ের জামা পর্যন্ত ছিঁড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনোমতে তাঁকে উদ্ধার করে কলকাতার বাইপাস ও মিন্টো পার্কের দুটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চোট গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার রেশ ধরে রবিবারও জেলায় জেলায় উত্তেজনা ছড়ায়, এবং হুগলিতে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

২ জুনের ধরনায় সবুজ সংকেত, তবে নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন!

কুণাল ঘোষ এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, ২ জুন রানি রাসমণি রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান বিক্ষোভ নিয়ে যে আইনি ও পুলিশি অনুমতির সংশয় ছিল, তা কেটে গিয়েছে। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে ধরনার চূড়ান্ত অনুমতি মিলেছে।

তবে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যেভাবে পর পর দু’দিন অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর তীব্র জনরোষ আছড়ে পড়েছে এবং দলের বিধায়কেরা আতঙ্কে ঘরবন্দি হতে শুরু করেছেন, তাতে ২ জুনের মেগা ধরনায় জেলা থেকে কতজন নেতা-কর্মী কলকাতায় আসতে সাহস পাবেন? এই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন খোদ কুণাল ঘোষ নিজেই। তিনি এদিন জানান, “পরিস্থিতি বেশ জটিল। তাই সমস্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তা খতিয়ে দেখেই তবেই স্থানীয় নেতারা কলকাতার এই ধরনা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।” তৃণমূলের এই ব্যাকফুট নীতি এবং সোম-মঙ্গলের জোড়া কর্মসূচির জেরে বর্তমানে গোটা রাজ্য জুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।