মনোনয়ন জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের মহারণে নিজের ঘরের মাঠ ভবানীপুর থেকেই চতুর্থবারের জন্য লড়াইয়ের ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকালে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে আড়ম্বরহীন অথচ আত্মবিশ্বাসী মেজাজে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তিনি। মনোনয়ন পেশের পর বাইরে বেরিয়েই ভবানীপুরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নেত্রী জানিয়ে দিলেন, জয়ের ব্যাপারে তিনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত এবং লক্ষ্য এবার নবান্ন দখল।
এদিন সকাল সাড় দশটা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অগণিত কর্মী-সমর্থক। হাতে দলীয় পতাকা ও বেলুন নিয়ে প্রিয় নেত্রীর সমর্থনে স্লোগান তোলেন তাঁরা। মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে মমতা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ভবানীপুরেই আমার ধর্ম-কর্ম, এখানেই ছিলাম, আছি। ভবানীপুর আমার সবকিছু। ভবানীপুরের মানুষকে আমার প্রণাম। আমরাই সরকার গড়ব। ভবানীপুরের পাশাপাশি ২৯৪ কেন্দ্রেই তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য বলব।”
তবে জয়ের বার্তা দিলেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া (SIR ইস্যু) নিয়ে এদিনও তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। মমতা বলেন, “মনে দুঃখ নিয়েই বলছি… এত মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। যেটুকু নাম উঠেছে তা আমি লড়াই করেছি বলে উঠেছে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের অধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনে তিনি আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর আসনে মমতার এই মনোনয়ন পেশ স্রেফ একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের চাঙ্গা করার এক বড় কৌশল। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে শীর্ষ আদালতে যাওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিও বিরোধীদের ছাড়তে নারাজ জোড়াফুল শিবির। আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।