চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বঙ্গে নজিরবিহীন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবং বিধানসভায় দলবদলু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল’ প্রধান বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাওয়ার পর, কার্যত চুরমার হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সাজানো দল। অধিকাংশ দাপুটে নেতা ও বিধায়ক যখন ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দল ছেড়েছেন, এবং পরিষদীয় দলের রাশ এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে গিয়েছে— ঠিক সেই চরম সংকটের মুহূর্তে দলনেত্রীর পাশে এসে দাঁড়ালেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
‘নতুন তৃণমূল’কে সরাসরি ‘বিজেমূল’ বলে তোপ দেগে বিদ্রোহী ৫৮ জন বিধায়ককে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দল ভাঙার এই খেলাকে ‘মানুষের সঙ্গে প্রতারণা’ বলে আখ্যা দেন মহুয়া মৈত্র। পরিসংখ্যান তুলে ধরে দলবদলুদের কার্যত ধুয়ে দিয়ে তিনি বলেন: এবারের নির্বাচনে বিজেপি ভোট পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পেয়েছে ২ কোটি ৬০ লক্ষ। অর্থাৎ দুই শিবিরের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩০ লক্ষ। বাংলার যে ৮০টি আসনে তৃণমূল প্রার্থীরা জিতেছিল, তার একটিতেও প্রার্থীদের নিজস্ব কোনও ক্যারিশ্মা ছিল না। মানুষ ভোট দিয়েছিল শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ ও ছবি দেখে।
সাংসদের সাফ কথা, “যাঁদের দল ছাড়ারই ছিল, তাঁরা ‘বিজেমূল’ প্রতীকে লড়ে নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়ে জিতে আসতে পারতেন। কিন্তু তা না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে ভোটে জিতে এসে, তারপর এভাবে দল ভেঙে দেওয়া মানে সাধারণ মানুষের রায়ের সঙ্গে ঘোর অন্যায় করা।” বিদ্রোহী বিধায়ক ও নেতাদের তীব্র কটাক্ষ করে মহুয়া মৈত্র দাবি করেন, এই দলত্যাগের নেপথ্যে কোনও আদর্শ নেই, রয়েছে কেবল ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতার লোভ। চরম খোঁচা দিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ বলেন: “আসলে বিগত ১৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থেকে নেতাদের শরীরে চর্বি জমে গিয়েছে। এখন বিরোধী আসনে বসে মানুষের জন্য লড়াই-আন্দোলন করতে আর ভালো লাগছে না। কারণ বিরোধী দলে থাকলে পুলিশ শুনবে না, বিডিও কথা শুনবে না, পদে পদে সমস্যায় পড়তে হবে। সেই কারণেই এখন শাসকের (বিজেপি) সঙ্গে তলায় তলায় হাত মিলিয়ে সমস্ত ঝঞ্ঝাট শেষ করে নিলেন তাঁরা। নামে বিরোধী দল হিসেবে থাকলেন, অথচ শাসকের পূর্ণ সমর্থন পকেটে পুরলেন।”