চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে আরও আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। এই কড়া পদক্ষেপের জেরে এবার কলকাতা পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মা। তোলাবাজি ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে গত কয়েকদিনে কলকাতার একাধিক বিদায়ী পুর-প্রতিনিধি শ্রীঘরে গেলেন। ধৃত কাউন্সিলরকে বৃহস্পতিবারই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরই মহেশ কুমার শর্মার বিরুদ্ধে বড়বাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত আর্থিক প্রতারণা ও ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ এনেছিলেন এক ব্যক্তি। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই পুরনো ফাইল নতুন করে খোলা হয় এবং পুলিশি তদন্ত গতি পায়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ মেলাতেই বুধবার রাতে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে থানায় রেখে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তাঁর প্রশাসনে কোনওরকম দুর্নীতি বা সিন্ডিকেট রাজ বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে সমস্ত ধরনের অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কড়া বার্তার পরই কলকাতা পুরসভার একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হতে শুরু করেছেন। ইতিপূর্বে প্রোমোটার এবং দোকানদারদের হুমকি দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শচীন সিংকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। একই ধরনের অভিযোগে বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর। এছাড়া বেহালা অঞ্চলের ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা বরো চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লেকেও আগেই পাকড়াও করেছে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো মহেশ কুমার শর্মার নাম।