ad
ad

Breaking News

LPG Shortage

হেঁশেলে হাহাকার! গ্যাসের আকালে বিপন্ন মিড-ডে মিল ও মৎস্যজীবীরা, সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ তৃণমূলের

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার সংসদের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে শামিল হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সাংসদরা।

LPG Shortage TMC MPs Protest in Parliament

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজ্যজুড়ে হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শুরু করে স্কুলের মিড-ডে মিল কিংবা মৎস্যজীবীদের ট্রলার, সর্বত্রই এলপিজি সিলিন্ডারের অভাবে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত। অভিযোগ উঠেছে, গ্যাস বুক করার দীর্ঘ সময় পরেও সিলিন্ডার মিলছে না, আবার অনেক ক্ষেত্রে বুকিং করতে গিয়েই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার সংসদের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে শামিল হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সাংসদরা।

দিল্লিতে সংসদের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেন মহুয়া মৈত্র, জুন মালিয়া, দোলা সেন, শতাব্দী রায় এবং মিতালী বাগেদের মতো তৃণমূল প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দাবি করছে যে বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে আট থেকে দশ দিন অপেক্ষার পরেও গ্রাহকরা খালি হাতে ফিরছেন। মহুয়া মৈত্র সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, সরকার ঘরে ঘরে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখুক। অন্যদিকে মিতালী বাগ সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সংসদে অনুপস্থিতি এবং কেরলে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে। তাঁদের মতে, গ্যাসের এই আকালের ফলে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে এবং মা ক্যান্টিন থেকে শুরু করে স্কুলগুলিতে রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কোথাও কোথাও বাধ্য হয়ে কাঠের উনুনে মিড-ডে মিল রান্না করতে হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব সবথেকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সুন্দরবন এলাকায়। সেখানকার মৎস্যজীবীরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় বহু ট্রলার মাঝসমুদ্রে যেতে পারছে না, যার ফলে মৎস্য ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। রতন দাস নামে এক মৎস্যজীবী জানিয়েছেন, সিলিন্ডার না মেলায় নির্ধারিত সময়ে তাঁরা সমুদ্রে পাড়ি দিতে পারেননি। আগে ট্রলারে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা হলেও পরিবেশ রক্ষায় তা বন্ধ হয়েছিল। বর্তমানে গ্যাসের আকাল চলায় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য থেকে কাঠ সংগ্রহের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাণিজ্যিক গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগও জোরালো হচ্ছে। চড়া দাম দিয়েও অনেক জায়গায় সিলিন্ডার মিলছে না বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি এবং সরবরাহের ঘাটতির মাঝে পড়ে সাধারণ মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।