চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: সংসদে ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ মামলায় তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সিবিআই-কে চার্জশিট পেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আরও দু’মাস সময় পেল লোকপাল। শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের বেঞ্চ লোকপালের সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই দু’মাসই শেষ সুযোগ, এরপর আর কোনো সময় দেওয়া হবে না।
এই মামলার প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সংসদে শিল্পপতি গৌতম আদানি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলার মতো প্রশ্ন করেছিলেন। এই অভিযোগ তুলে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে লোকসভার স্পিকারের কাছে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানান। পরবর্তীকালে সিবিআই তদন্তে উঠে আসে যে, মহুয়া তাঁর সংসদের লগ-ইন আইডি হিরানন্দানিকে দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে অনলাইনে একাধিক প্রশ্ন পোস্ট করা হয়েছিল। সিবিআই তাদের রিপোর্টে দাবি করে, মহুয়া মোট ৬১টি প্রশ্ন করেছিলেন যার বিনিময়ে তিনি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছিলেন।
তদন্ত শেষে সিবিআই মহুয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার জন্য লোকপালের কাছে অনুমতি চায়। গত বছরের ১২ নভেম্বর লোকপাল সেই অনুমতি দিলেও মহুয়া মৈত্র তাকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। মহুয়ার অভিযোগ ছিল, লোকপাল সঠিক আইনি প্রক্রিয়া মেনে এই নির্দেশ দেয়নি। সেই আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৯ ডিসেম্বর হাই কোর্ট লোকপালের আগের নির্দেশটি খারিজ করে দেয় এবং এক মাসের মধ্যে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলে।
হাই কোর্ট নির্ধারিত সেই এক মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর লোকপাল আদালতের কাছে আরও সময়ের আবেদন জানায়। শুক্রবার শুনানির সময় মহুয়ার আইনজীবীরাও লোকপালের এই অতিরিক্ত সময় চাওয়ার বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত লোকপালকে দু’মাস সময় দিলেও জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিবিআই-কে চার্জশিট পেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত লোকপালকে নিতে হবে।