ad
ad

Breaking News

Lakshmir Bhandar Scam

Lakshmir Bhandar Scam: ফর্মে সই করে প্রতারণার শিকার! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা গেল জাল অ্যাকাউন্টে

কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আসেনি একটিও টাকা। শেষে খোঁজখবর করে চমকে উঠলেন তিনি।

Lakshmir Bhandar Scam Kolkata Woman Discovers Fake Account

চিত্র : সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় ফর্ম পূরণ করেছিলেন এক গৃহবধূ। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আসেনি একটিও টাকা। শেষে খোঁজখবর করে চমকে উঠলেন তিনি। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে জানতে পারলেন, তাঁর নামেই খোলা একটি অজানা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমা হচ্ছে। সেই অ্যাকাউন্টে দেওয়া ঠিকানা সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড সদর দফতর—ফোর্ট উইলিয়াম! অথচ সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনও সম্পর্কই নেই (Lakshmir Bhandar Scam)।

ঘটনাটি মধ্য কলকাতার সালিয়া লেনের বাসিন্দা এক গৃহবধূর। বছর দুয়েক আগে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে মধ্য কলকাতার এক পুরসভা অফিসে যান। সেখানেই এক ব্যক্তি নিজেকে পুরকর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁকে একটি ফাঁকা ফর্মে সই করতে বলেন। আশ্বাস দেন, বাকি তথ্য তিনিই পূরণ করে দেবেন। ওই মহিলা নিজের নাম-পরিচয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি, পরিচয়পত্র ও ছবি তাঁকে জমা দেন। তাঁকে বলা হয়, অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ হতে চার মাস লাগবে (Lakshmir Bhandar Scam)।

আরও পড়ুন: Theft Killing: মোবাইল চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে খুন, পুলিশি হেফাজতে ৫ অভিযুক্ত

২০২৩ সালের অক্টোবরে তাঁর মোবাইলে একটি মেসেজ আসে—‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজের ব্যাঙ্ক অ্উন্টে কোনও টাকা না আসায় সন্দেহ হয় তাঁর। ফের বোরো অফিসে যোগাযোগ করলে ওই একই ব্যক্তি একটি ফর্মে সই করান। ফের তাঁকে নিজের পরিচয়পত্র, ছবি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। দ্বিতীয়বারও তিনি ফর্মে কী লেখা আছে, তা না দেখেই সই করেন (Lakshmir Bhandar Scam)।

এরপরও মাস কেটে যায়। এই বছরের জানুয়ারিতে আবার একটি মেসেজ আসে, যেখানে একটি নতুন আইডি নম্বর পাঠানো হয়। কিন্তু এবারও তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা না এলে তিনি স্থানীয় এক সাইবার ক্যাফেতে যান খোঁজ নিতে। সেখানেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে একটি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সোনাপট্টি শাখায়। সেই অ্যাকাউন্টে গত বছরের মার্চ মাস থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা জমা পড়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অন্তর্গত হিসাবে।

Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/1DpmwTbAnA/

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, ওই জাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া ঠিকানা সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কম্যান্ডের সদর দফতর, ফোর্ট উইলিয়াম। দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও তাঁর নয় বলে দাবি করেছেন ওই গৃহবধূ। তিনি আশঙ্কা করছেন, কেউ তাঁর জাল সই করে ওই টাকা নিয়মিত এটিএম কার্ডের মাধ্যমে তুলে নিচ্ছে।এরপর গৃহবধূ গিরিশ পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। গিরিশ পার্ক থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি তলব করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নথি হাতে পাওয়ার পরই খতিয়ে দেখা হবে, এটি ব্যাঙ্কের গাফিলতি না কি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের কাজ (Lakshmir Bhandar Scam)।