চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কসবার একটি বাড়িতে ঘটে গেল চমকে দেওয়া ঘটনা, যা শহরের মানুষকে ভীত করেছে। বাবার মৃতদেহের পাশে দিন-রাত বসে থাকা মেয়ের সঙ্গে পুলিশের অভিযান শেষে পরিবারের অন্য সদস্যকেও উদ্ধার করা হলো। মা অর্চনা সেনকে উদ্ধার করা হয় খাটের তলার বস্তা থেকে অচৈতন্য অবস্থায়।
জানা গেছে, বোসপুকুরের ওই বাড়িতে থাকতেন সুমিত সেন তার স্ত্রী অর্চনা সেন এবং কন্যা সম্প্রীতি সেনের সঙ্গে। সুমিত একজন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিবারের তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং বাড়ি থেকে খুব কমই বের হতেন। তবে গত কয়েকদিনে তাদের কাউকেই বাড়িতে দেখা যাচ্ছিল না।
প্রথমে প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন হয়তো কেউ অসুস্থ, তাই ঘরে রয়েছেন। কিন্তু কয়েক দিন কেটে যাওয়ার পর সন্দেহ হয়। এরপর তাদের এক আত্মীয় ফোন করে খোঁজ নেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রীতি ফোনে জানান বাবা-মা ভালো আছেন। কিন্তু সরাসরি কথা বলতে গেলে বারবার এড়িয়ে যেতেন।
সোমবার সেই আত্মীয় এবং প্রতিবেশীরা সুমিতের বাড়িতে যান। ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। ঘরের মাঝখানে পড়ে ছিল পচাগলা মৃতদেহ, যার পাশে বসে ছিলেন তাঁর মেয়ে। খাটের তলার বস্তা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর স্ত্রী অর্চনা সেনকে।
পুলিশ তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সুমিত সেনের মৃত্যু কী কারণে হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। অনুমান করা হচ্ছে, অসুস্থতার জেরে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়। কসবা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
সম্প্রীতির আচরণও পুলিশের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। তার মানসিক অবস্থার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
২০১৫ সালে কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনা এখনও শহরের মনে তীব্র প্রভাব রেখেছে। ওই সময় এক বাড়ি থেকে আগুনে পুড়ে যাওয়া এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ দেখেছিল, ঘরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে এক মহিলার কঙ্কাল। পরে জানা যায়, কঙ্কালটি ওই বাড়িরই এক তরুণীর এবং তাঁকে প্রতিদিন খাবার দিতেন পরিবারেরই সদস্য পার্থ দে। এই ঘটনার দুই বছর পর, ২০১৭ সালে পার্থ নিজেও আত্মঘাতী হন।