চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনে এক চরম ডামাডোল চলছে। নির্বাচন মেটার মাত্র এক মাসের মধ্যে যেখানে রাজ্য স্তরে একের পর এক সমীকরণ বদলে যাচ্ছে, সেখানে এবার তার আঁচ এসে পড়ল তিলোত্তমার পুর প্রশাসনেও। কলকাতা পুরসভা (KMC) ভেঙে যাওয়ার তীব্র জল্পনার মাঝেই এবার পুরবোর্ড বাঁচাতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল ‘পুরনো তৃণমূল’ নেতৃত্ব। কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া সাম্প্রতিক রক্ষাকবচ ও নির্দেশকে হাতিয়ার করে আগামী ১৯ জুন কলকাতা পুরসভার মেগা অধিবেশন ডাকলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। বৃহস্পতিবার এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।
প্রসঙ্গগত, গত ২২ মে কলকাতা পুরসভার অন্দরে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক নাটকের সাক্ষী হয়েছিল শহরবাসী। সেদিন পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় আইন মেনে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। তৃণমূলের কাউন্সিলররা নির্দিষ্ট সময়ে পুরসভায় উপস্থিত হলেও দেখা যায়, মূল অধিবেশন কক্ষের দরজায় বাইরে থেকে বড়ো বড়ো তালা ঝুলছে! দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও চাবি না মেলায় কাউন্সিলররা ভেতরে ঢুকতেই পারেননি।
অবশেষে বাধ্য হয়েই ক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ তথা চেয়ারপার্সন মালা রায় সমস্ত দলীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরের অলিন্দেই মেঝেতে বসে সভা সারেন। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, “আজ পুরসভার ইতিহাসে এক কালো দিন। আমি নতুন রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করছি, ক্ষমতার সংঘাত সরিয়ে রেখে কলকাতার সাধারণ বাসিন্দাদের স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে দেওয়া হোক।”
এই নজিরবিহীন ঘটনার পরেই পুরবোর্ডের আইনি অধিকার ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই মামলার শুনানিতেই বুধবার বড়সড় নির্দেশ দেয় বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কলকাতা পুরসভার আইন মেনে মাসিক বৈঠক ডাকার সম্পূর্ণ এক্তিয়ার রয়েছে চেয়ারপার্সন মালা রায়ের।
এর পাশাপাশি, গত ২২ মে বারান্দায় হওয়া ওই সভার বৈধ রেজোলিউশনের কপি হলফনামা আকারে আগামী ৯ জুনের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে হাইকোর্টে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় নতুন শাসকদল আসার পর থেকেই কলকাতা পুরসভা ভেঙে দেওয়ার যে গুঞ্জন চলছিল, হাইকোর্টের এই হস্তক্ষেপের পর ১৯ জুনের পুর অধিবেশন নতুন করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে এক বিশাল স্নায়ুযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করল।