চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিতেই পুরবোর্ড টিকিয়ে রাখা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান পুরবোর্ড কি আদৌ বহাল থাকবে, নাকি সেখানে সরকারি প্রশাসক বসানো হবে—তা নিয়ে এখন জোর জল্পনা চলছে। আর যদি পুরবোর্ড টেকেই, তবে কলকাতার পরবর্তী মেয়র কে হবেন? এই সমস্ত জ্বলন্ত প্রশ্নের সমাধান সূত্র খুঁজতে আগামী রবিবার বিকেল ৩টেয় ইএম বাইপাসের ধারে ‘তৃণমূল ভবন’-এ একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলর এবং দলের শীর্ষ পদাধিকারীদের এই বৈঠকে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে আসছে একটি নাম—দলের অন্দরে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফের কলকাতার মেয়র পদে ফিরিয়ে আনা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিমের আচমকা ইস্তফার পর কলকাতা পৌরসংস্থায় কার্যত এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই নবান্নের পক্ষ থেকে পুর কর্তৃপক্ষকে একটি কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে—বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন কলকাতা পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না? আগামী ৩ দিনের মধ্যে এই চিঠির সন্তোষজনক উত্তর দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই আইনি চাপ সামলানোর পাশাপাশি নতুন মেয়র বসানোর তোড়জোড়ও সমান্তরালভাবে শুরু করে দিয়েছে শাসকদল। দলীয় সূত্রে খবর, ‘কানন’ তথা শোভন চট্টোপাধ্যায়কে পুনরায় কলকাতার নগরপাল করার বিষয়ে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব অনেকটাই ইতিবাচক।
তবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মেয়র হওয়া নিয়ে আইনি ও প্রযুক্তিগত কিছু প্রশ্নও উঠছে, কারণ তিনি বর্তমানে কলকাতা পৌরসংস্থার কাউন্সিলর পদে নেই। অবশ্য কলকাতা পুরসভার সংশোধিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতার যে কোনও সাধারণ নাগরিককেও মেয়র পদে বসানো সম্ভব; তবে শর্ত একটাই—দায়িত্ব নেওয়ার পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে তাঁকে কোনও একটি ওয়ার্ড থেকে উপ-নির্বাচনে জিতে আসতে হবে। কিন্তু এখানেই বড় খটকা রয়েছে, কারণ বর্তমান পুরবোর্ডের স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ৬ মাসই বাকি আছে। এই পরিস্থিতিতে শোভনকে মেয়র করার বিষয়ে দলের অন্দরে একাংশের মধ্যে ভিন্ন মতও রয়েছে। তৃণমূলের বহু নেতা-কাউন্সিলর চাইছেন, এই অল্প সময়ের জন্য বর্তমান ডেপুটি মেয়র বা অভিজ্ঞ কোনও মেয়র পারিষদকেই (এমআইসি) মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হোক। আগামী সপ্তাহে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি রওনা হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজধানী যাওয়ার আগেই কলকাতার পুর-সংকট মেটাতে রবিবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী।