চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ তালিকায় ‘দাগি’ বা অযোগ্য প্রার্থীদের নাম থাকা নিয়ে বিতর্কের জেরে কলকাতা হাই কোর্ট স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি অমৃতা সিনহা বুধবার এই মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেন। বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সকল প্রার্থীর নাম ‘দাগি’দের তালিকায় রয়েছে, তাঁরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না। যদি এরপরেও কোনো প্রার্থী অংশ নেন, তাহলে অবিলম্বে তাঁর নাম বাদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। গত শনিবার রাতে এসএসসি একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করার পরই এই বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, তালিকায় অনেকের নাম নেই এবং একইসঙ্গে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন (Kolkata High Court)।
আরও পড়ুনঃ Ballagor Potagachi: ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নেই গ্রামের বহু ভোটারের নাম, আতঙ্ক ছড়াল একতারপুরে
বুধবারের শুনানিতে বিচারপতি সিনহা বলেন, ২০১৬ এবং ২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একই ব্যক্তির রোল নম্বর ভিন্ন হতে পারে। শুধু নাম প্রকাশ করলে অনেক সময় পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না, কারণ এক নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারে। এই বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সহজেই ‘দাগি’দের শনাক্ত করার জন্য নামের পাশাপাশি অভিভাবকদের নাম-সহ আরও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে তালিকাটি প্রকাশ করতে হবে। বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টও এই উদ্দেশ্যেই নাম প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী জানান, মামলাকারীরা যে চারজন ‘দাগি’ প্রার্থীর নাম দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দু’জন বিশেষভাবে সক্ষম (Physically Handicapped)। সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের কিছু ছাড় দিয়েছে (Kolkata High Court)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি সিনহা পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ সুবিধা দিলেও, এরা তো চিহ্নিত ‘দাগি’ বা অযোগ্য। বিশেষ সুবিধা মানে সাধারণত বয়সজনিত ছাড় বোঝায়। এই চিহ্নিত অযোগ্যরা কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। তবে কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন যে এসএসসি সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনেই কাজ করছে এবং আদালত নির্দেশ দিলে তাঁরা নাম বাদ দিয়ে দেবেন। মামলাকারীদের আইনজীবী অবশ্য অভিযোগ করেন যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কমিশন ‘দাগি’দের তালিকা প্রকাশ করেনি এবং প্রকাশিত তালিকাতেও নির্দিষ্টভাবে তাঁদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, কমিশনের আইনজীবী জানান, মামলাকারীদের দাবি মেনে তালিকা প্রকাশে কমিশন বাধ্য নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে (Kolkata High Court)।