চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ‘পকসো’ অর্থাৎ প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস অ্যাক্ট ২০১২ তৈরি হয়েছিল ১৮ বছরের কমবয়সীদের যৌন অপরাধ থেকে রক্ষা করার জন্য। এই আইনের (POCSO Misuse) সাহায্যে শিশু-কিশোর-কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতনকারীদের কঠোর সাজা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র সুবিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেই এই আইন ব্যবহার করা হচ্ছে কি? প্রশ্নটা অনেকদিনের, তবে এবার এই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট সরব হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন হাই কোর্টের বিচারপতি।
পূর্ব মেদিনীপুরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ওই মামলায় পকসো আইন (POCSO Misuse) প্রয়োগ আসলে তাঁকে হেনস্থা করার জন্য অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ক্ষোভপ্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার বেঞ্চ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ, এফআইআর, চার্জশিট খারিজ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, পকসো তৈরি হয়েছিল নাবালকদের নিরাপত্তার জন্যে। তা কোনও নিরীহ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর অস্ত্র হতে পারে না।
পাশাপাশি জেলা পুলিশের কর্মক্ষমতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি। মহিষাদল থানার আইও বা তদন্তকারী অফিসার সম্পর্কে আদালতের পর্যবেক্ষণ, এতবড় অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতাটুকুও খুঁজতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। দায়সারাভাবে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে ন্যূনতম তথ্যপ্রমাণও নেই। আইনের গুরুতর অপব্যবহারের এটা একটা উদাহরণ।
কলকাতা হাই কোর্টের বক্তব্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো-র মতো কঠোর ধারা প্রয়োগ করে তাঁকে প্রকৃতপক্ষে চরম হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁকে সবরকম ভাবে নিপীড়ন করার জন্যইএই আইনকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ২৪ পাতার রায়ে একইসঙ্গে উল্লেখ করেছে, পকসো-র মতো বিশেষ আইনের অপব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এবং এরকম বহু অভিযোগের ক্ষেত্রে শেষপর্যন্ত অভিযুক্তর বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ না থাকায় মামলা খারিজও হয়ে যাচ্ছে।
শিশু-কিশোর-কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO Misuse) একটি অত্যন্ত কঠোর আইন। কিন্তু বধূ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, মাদক আইন বা অস্ত্র আইন সহ অন্য অনেক কঠোর আইনের ধারার মতোই পকসো আইনকেও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অস্ত্র হিসাবে অপব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
আইনজীবীরা বলছেন, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ হলে ভারতীয় আইন অনুযায়ী অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিধান রয়েছে ঠিকই, কিন্তু অগুন্তি মিথ্যে অভিযোগ প্রমাণ হলেও অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপে আইন বিভাগের তেমন উৎসাহ নেই (POCSO Misuse)। যদিও কয়েকটি ব্যতিক্রমের উদাহরণও রয়েছে। কিন্তু এই রকম কঠোর আইনে কাউকে গ্রেফতার করা হলে বা আদালতে মামলা চললে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তি যে সামাজিকভাবে কালিমালিপ্ত হন, তার থেকে নিস্তার পাওয়ার কি কোনও পথ খোলা আছে? প্রশ্নটা থেকেই গেল।