চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পূর্ব কলকাতার ত্রাস তথা তপসিয়া-আনন্দপুর এলাকার স্বঘোষিত ‘বেতাজ বাদশা’ মিনি ফিরোজের অপরাধ সাম্রাজ্যের এক ভয়ঙ্কর ও রোমহর্ষক কীর্তি ফাঁস করলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। নাগাল্যান্ডের ভুয়ো ঠিকানায় তৈরি করা লাইসেন্স দেখিয়ে কলকাতার দোকান থেকেই খোদ ‘বিদেশি’ নাইন এমএম পিস্তল কিনে বুক ফুলিয়ে তাণ্ডব চালাত এই গ্যাংস্টার। বেগতিক বুঝে বিহারে গা ঢাকা দিলেও শেষরক্ষা হল না। ডানকুনি টোল প্লাজার কাছে নাটকীয় গ্রেফতারের পর তার ডেরা থেকে উদ্ধার হল আধুনিক মারণাস্ত্র ও কার্তুজের বিশাল সম্ভার।
তপসিয়া, তিলজলা ও আনন্দপুর-সহ পূর্ব কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল এই মিনি ফিরোজ। তার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনের ধারা-সহ মোট ৩৭টি মারাত্মক মামলা ঝুলছে। ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানোর সময় সে সবসময় একটি আসল নাইন এমএম পিস্তল উঁচিয়ে দাপট দেখাত। লালবাজারের গোয়েন্দা পুলিশ (DD) তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, এই পিস্তলটি সে কিনেছিল কলকাতারই এক নামী অস্ত্রের দোকান থেকে! আর তা কিনতে সে ব্যবহার করেছিল নাগাল্যান্ডের একটি সম্পূর্ণ জাল লাইসেন্স এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র। লাইসেন্সে নাম ফিরোজের থাকলেও, ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল নাগাল্যান্ডের। এই তথ্য সামনে আসতেই কলকাতার ওই নির্দিষ্ট অস্ত্র দোকানের মালিকদেরও তলব করতে চলেছে লালবাজার।
পুলিশি তৎপরতা বাড়তেই গত কয়েক মাস আগে নিজের মোবাইল বন্ধ করে বিহারের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় পালিয়ে গিয়েছিল মিনি ফিরোজ। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লালবাজারের অ্যান্টি-রাউডি স্কোয়াড ও গোয়েন্দারা ডানকুনি টোল প্লাজার কাছে ফাঁদ পাতেন। কলকাতা ঢোকার মুখেই তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে জেরা করে তার বাড়ি ও একাধিক ডেরায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই ম্যাগাজিন-সহ ওই ‘বিদেশি’ নাইন এমএম পিস্তল, নাগাল্যান্ডের ভুয়ো লাইসেন্স এবং তার সঙ্গীদের ব্যবহারের জন্য লুকিয়ে রাখা আরও তিনটি বেআইনি মুঙ্গেরি পিস্তল ও ওয়ান শটার উদ্ধার হয়।
গোয়েন্দাদের দাবি, মিনি ফিরোজের এই নাইন এমএম পিস্তল কেনার পিছনে ছিল এক গভীর ও সুচতুর পরিকল্পনা। নাগাল্যান্ডের ওই লাইসেন্সটি আসল দেখিয়ে সে কলকাতার দোকান থেকে বৈধ উপায়ে প্রচুর পরিমাণে বুলেট বা কার্তুজ কিনত। কিন্তু সেই বুলেটের একটা বড় অংশ সে ব্যবহার করত তার গ্যাংয়ের ছেলেদের কাছে থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি মুঙ্গেরি পিস্তল ও ওয়ান শটারে। সিন্ডিকেট রাজ কায়েম রাখতে এবং তোলাবাজির টাকা আদায় করতে এই মুঙ্গেরি অস্ত্রগুলিই বেশি ব্যবহার করা হতো। এই চক্রের সাথে বিহার বা নাগাল্যান্ডের কোনো বড় অস্ত্র পাচারকারী চক্র জড়িত কি না এবং এই বিপুল অস্ত্রের সম্ভার সে কার মাধ্যমে তৈরি করেছিল, তা জানতে ধৃত গ্যাংস্টারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছেন লালবাজারের দুঁদে আধিকারিকরা।