চিত্রঃ প্রতীকী
Bangla Jago Desk: আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রাখার অভিযোগে কলকাতা পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পার্থ চোঙদারকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। ধৃত পার্থ চোঙদার কলকাতা পুরসভার প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত পার্থর আয় ও সম্পত্তির হিসাবের মধ্যে বিস্তর গরমিল পাওয়া গেছে। জানা গিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর মোট আয়ের তুলনায় পাঁচ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছে। এই চার বছরে পার্থর মোট বেতন ছিল ৫৬ লক্ষ টাকা, অথচ তিনি তাঁর নামে ও বেনামে প্রায় ৬ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক (Kolkata Engineer)।
আরও পড়ুনঃ Baharampur: বহরমপুরে সাইবার প্রতারণা চক্র ভেঙে ফেলল পুলিশ, গ্রেফতার ৭
তদন্তে পার্থ চোঙদারের নামে-বেনামে থাকা বিপুল সম্পত্তির বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। নিউটাউনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ২৮ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ব্যাঙ্কে কোথাও ১০ লক্ষ, ২০ লক্ষ, ২৫ লক্ষ টাকা করে বিনিয়োগ করেছেন। কলকাতা-সহ সংলগ্ন এলাকায় তাঁর ৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বোলপুরে রয়েছে ৩৬ লক্ষ টাকার একটি বাংলো। পার্থর ব্যাঙ্কের লকারে ৭৩৪.৮৫ গ্রাম সোনা পাওয়া গেছে। জীবনবিমাও রয়েছে তাঁর। পার্থর স্ত্রীর নামে একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থাও রয়েছে। মালদহে থাকা শ্বশুর-শাশুড়ির নথি ব্যবহার করে কলকাতার একাধিক ব্যাঙ্কে প্রায় ৫-৬টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যেখানে কমপক্ষে কোটি টাকা রাখা রয়েছে। তিনি একাধিকবার বিদেশযাত্রাও করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা ২০২৩ সালে পুরসভার এই আধিকারিকের বাড়িতে হানা দেন। প্রায় দু’বছর ধরে তদন্ত চলার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয় (Kolkata Engineer)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/
শুক্রবার ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। তদন্তকারীরা আশা করছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিপুল টাকার উৎস এবং তিনি কোনও অসামাজিক কাজ বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কিনা, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে।কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আগেই জানিয়েছিলেন, কোনও পুরকর্মী অন্যায় করলে রেয়াত করা হবে না। সেই কথা মাথায় রেখেই পার্থ চোঙদারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে (Kolkata Engineer)।