চিত্র- AI
Bangla Jago Desk: কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আপাতত প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে বলে বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে জানাল রাজ্য। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, এই বিষয়ে সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পরই এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার মামলাটির শুনানি হয় হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে।
গত ২২ জুন বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, কলকাতায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, এতে পড়ুয়ারা ভালো ও শুদ্ধ খাবার পাবে। সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক।মামলাকারীর বক্তব্য, কলকাতার বহু স্কুলে মিড ডে মিল রান্না ও পরিবেশনের সঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বহু মহিলা যুক্ত রয়েছেন। ইসকন এই দায়িত্ব পেলে তাঁদের জীবিকা সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি মিড ডে মিলে ডিম না থাকার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় মামলায়।
শুনানিতে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে বলেন, বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের স্তরে রয়েছে। কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাই এই মুহূর্তে মামলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অন্যদিকে, মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে আবেদন জানান, রাজ্য যেন হলফনামা দিয়ে বিস্তারিতভাবে জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার অবস্থান কী এবং সরকার আদৌ কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি বহু মহিলার কর্মসংস্থান ও পড়ুয়াদের পুষ্টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এরপরই রাজ্যকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ফলে ইসকনের মাধ্যমে কলকাতায় মিড ডে মিল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে এখন আদালতের নজরদারিতেই এগোবে পরবর্তী প্রক্রিয়া।