ad
ad

Breaking News

Hazra Park Durgotsav

পুজোর মাধ্যমে “শুদ্ধিকরণ”-এর বার্তা দিচ্ছে হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব

আশ্বিনের শারদপ্রাতে আলোকমঞ্জির বেজে উঠেছে। আর হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা দিন বাকি পিতৃপক্ষের অবসানের আর দেবীপক্ষের সূচনার।

Hazra Park Durgotsavam conveys the message of

Bangla Jago Desk: মৌ বসু: আশ্বিনের শারদপ্রাতে আলোকমঞ্জির বেজে উঠেছে। আর হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা দিন বাকি পিতৃপক্ষের অবসানের আর দেবীপক্ষের সূচনার। সামাজিক সচেতনতার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাম বাংলার অসাধারণ শিল্পকর্মকেও তুলে ধরতে প্রস্তুত দক্ষিণ কলকাতার হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব কমিটি। এই পুজোর সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি এই পুজোর প্রধান উপদেষ্টা। ৮২ বছরে হাজরা পার্ক দুর্গোৎসবের থিম হল ‘শুদ্ধি’।

[আরও পড়ুনঃ সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার অনুব্রত মণ্ডল মুক্তি পেতে চলেছেন, বীরভূমজুড়ে উৎসবের ঘটা

থিম ভাবনায় রয়েছেন শিল্পী বিমান সাহা। প্রতিমা গড়ছেন শিল্পী পরিমল পাল। হাজরা পার্ক দুর্গোৎসবের পুজোর সহ সম্পাদক পদে রয়েছেন মন্ত্রীপুত্র তথা তৃণমূল নেতা সায়নদেব চট্টোপাধ্যায়। থিম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ” হাজরা পার্কের পুজোর এবারের থিম হল শুদ্ধি। এই নামকরণের মূলে রয়েছে এই পুজোর শুরু হওয়ার ইতিহাস। দলিতদের সমাজে সম্মান অধিকার দেওয়ার জন্য ধর্মযুদ্ধের লড়াই। ৮২ বছর ধরে এক্ষেত্রে কলকাতার বাকি পুজোর থেকে আলাদা ভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব কমিটির পুজো।

কলকাতা পুর নিগমের নিকাশি ব্যবস্থার সবচেয়ে কঠিন কাজ করে আসছেন দলিত কর্মচারীরাই। দুরূহ কাজ করলেও সমাজে দলিতদের অবস্থান ছিল নীচে। মন্দিরের পাশাপাশি দুর্গাপুজোর মণ্ডপেও তাঁদের ঢোকার অনুমতি ছিল না। কুমোরটুলি থেকে ঠাকুর আনার সময় তাঁরা দূর থেকেই ঠাকুর দর্শন করতেন ও প্রণাম করতেন। এমনকি, মায়ের বিসর্জনের সময়ও দলিতরা দূর থেকে গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে প্রণাম করতেন।

৩ এর দশকের শেষে ও ৪ এর দশকের গোড়ার দিকে পরাধীন ভারতে সামাজিক আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী দলিতদের হরিজন বলে সম্বোধন করেন ও দলিতদের সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধর্মযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। পরে কলকাতা পুর নিগমের মেয়র হন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। সিইও’র পদ অলঙ্কৃত করেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।

[আরও পড়ুনঃ NCI: উদ্বোধন হবে নতুন এনসিএ, পরদিন বিসিসিআই বৈঠকে নেওয়া হবে বড় সিদ্ধান্ত

নেতাজীর নেতৃত্বে কলকাতা পুর নিগম দলিত কর্মচারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সামগ্রিক বদল আনে। এই আবহেই হাজরা পার্ক দুর্গোৎসবের জন্ম। ৪ এর দশকে দক্ষিণ কলকাতার স্ক্যাভেঞ্জার কলোনি বা দলিত মহল্লা ও কয়লা ডিপো হাজরা পার্কের কাছে অবস্থিত ছিল। এক ব্যক্তি দলিতদের পুজো করার জন্য ছোট্ট দুর্গামূর্তি নিয়ে আসেন। উচ্চবর্গের মানুষের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় ওই ব্যক্তির।

ঘটনাটি ডিপোর টিম কিপার কলকাতা পুর নিগমের আধিকারিককে জানান। এরপর পুর নিগমের উচ্চবর্ণের কর্মচারী ও আধিকারিকরাই দলিত কর্মচারীদের জন্য পুজোর দায়িত্ব নেন। সেই থেকে এই পুজোর শুরু। ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত কদমতলায় হয় পুজো। ১৯৪৫ সাল থেকে হাজরা পার্কের বর্তমান জায়গায় উঠে আসে পুজো। এখন সর্বজনীন এই পুজোর দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন কলকাতা পুর নিগমের দলিত কর্মচারীরা।’