ad
ad

Breaking News

Jadavpur Station

যাদবপুর স্টেশনে আপাতত হচ্ছে না হকার উচ্ছেদ, রাতভর উত্তেজনার পর দাবি বাম নেতৃত্বের

যে কোনও সময় দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হতে পারে, এই আশঙ্কায় রাতেই যাদবপুর স্টেশনে জড়ো হন বাম নেতা-কর্মীরা

Jadavpur Station Tension Eases After Left Leaders’ Night Protest

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদ ঘিরে মঙ্গলবার রাতভর টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। স্টেশনের বাইরে বুলডোজার দাঁড়িয়ে থাকার অভিযোগে আতঙ্ক ছড়ায় হকারদের মধ্যে। যে কোনও সময় দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হতে পারে, এই আশঙ্কায় রাতেই যাদবপুর স্টেশনে জড়ো হন বাম নেতা-কর্মীরা। প্রতিবাদে শামিল হন সৃজন ভট্টাচার্য-সহ বাম নেতৃত্ব। তাঁরা জানিয়েছিলেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া হকার উচ্ছেদ রুখতে রাত জেগে পাহারা দেওয়া হবে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চাপানউতরের পর গভীর রাতে বাম নেতৃত্ব দাবি করে, আপাতত যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদ অভিযান হচ্ছে না। সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “কিছু অনুরোধ রয়েছে, সেগুলি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তিন সপ্তাহ সময় পাওয়া গিয়েছে। যে আইনি কাগজপত্র নিয়ে লড়াই হয়েছে, সেই বিষয় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আধিকারিকদের জানাতে হবে। তাঁদের সঙ্গে আমাদেরও সহযোগিতা করতে হবে।”

বাম নেতা-কর্মীদের আশঙ্কা ছিল, হাওড়া ও শিয়ালদহের মতো যাদবপুর স্টেশন চত্বরেও রাতারাতি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে। সম্প্রতি রেলের তরফে একাধিক স্টেশন চত্বরে বেআইনি দখলদারি সরাতে অভিযান শুরু হয়েছে। কোথাও অস্থায়ী দোকান ও ঝুপড়ি সরানো হয়েছে, কোথাও আবার বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে বেআইনি নির্মাণ। সূত্রের খবর, শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী দোকান ও ঝুপড়ি সরানো হয়েছে।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই আগাম পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই অভিযান চালানো হয়েছে। কারও দাবি, সকালে এসে দেখেছেন তাঁর দোকান আর নেই। আবার কেউ কেউ জানান, উচ্ছেদের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁদের বক্তব্য, জীবিকার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে উচ্ছেদ করা অন্যায়। রেল সূত্রে দাবি, বেআইনি দখলদারি সরানোর প্রক্রিয়া বহুদিন ধরেই চলছিল। তবে আগের সরকারের অসহযোগিতার কারণে সেই কাজ গতি পায়নি। উচ্ছেদ অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। সেই সহযোগিতা না মেলায় এতদিন দখলদারি সরানো কঠিন হচ্ছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হাওড়া ময়দান সংলগ্ন রাস্তা ও ফুটপাথে আর পসরা সাজিয়ে বসতে পারবেন না মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাওড়া থানায় ডেকে এই নির্দেশের কথা জানিয়ে দিয়েছেন হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা। তাঁদের জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাদবপুর স্টেশন ঘিরে আপাতত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত থাকলেও হকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। পুনর্বাসন, বৈধতা এবং জীবিকার প্রশ্নে আগামী কয়েক সপ্তাহে রেল, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।