চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির সুর বেঁধে দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার এক বর্ণাঢ্য সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘হিংসামুক্ত বাংলা’। গত কয়েক দিনের ম্যারাথন বৈঠকের পর কমিশনের ফুলবেঞ্চের এই কড়া বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ভোটের সময় প্রত্যেক আধিকারিককে শুধুমাত্র কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার প্রচ্ছন্ন মদতে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের কোথাও অশান্তির আঁচ পাওয়া গেলেই যেন দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বাংলার ভোটের ইতিহাসে বোমাবাজি বা প্রাণহানির মতো ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলাগুলো সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটায় কমিশন সেই ধারাকে ২০২৬ সালেও বজায় রাখতে চায়। জ্ঞানেশ কুমারের কথায়, “কোনো উসকানি বরদাস্ত করা হবে না।” অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব অনস্বীকার্য। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়িয়ে যাতে উত্তেজনা সৃষ্টি করা না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। যারা ইন্টারনেটে উসকানিমূলক প্রচার চালাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের আশঙ্কার নিরসন ঘটিয়ে কমিশনার আশ্বাস দিয়েছেন যে, একজনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না।
সোমবার থেকে রাজ্যের ২৩টি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং ২৪টি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেছে কমিশনের ফুলবেঞ্চ। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর অভাব-অভিযোগ শোনার পরই কমিশন এই রণকৌশল সাজিয়েছে। সামগ্রিকভাবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক মনে করলেও, ভোটের দিনগুলোতে যাতে কোনো চ্যুতি না ঘটে, সেটাই এখন কমিশনের চ্যালেঞ্জ।