চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর এবার বাংলার রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ও অভাবনীয় মহাধস! তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনায়কতন্ত্র ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য ক্ষোভ উগরে দিয়ে কিছুদিন আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Ray)। এবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সরাসরি সল্টলেকের বিজেপি (BJP) সদর দফতরে হাজির হলেন তিনি। শুধু সুখেন্দুশেখর একাই নন, সল্টলেকের ওই একই বৈঠকে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পাশে দেখা গেল সদ্য পদত্যাগী আরও দুই হেভিওয়েট তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেবকেও (Sushmita Dev)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির নতুন সদর দফতরে আচমকাই যেন রাজনৈতিক ভূমিকম্প ঘটে গেল। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেখানে এসে পৌঁছান তৃণমূলের প্রাক্তন তিন রাজ্যসভা সাংসদ, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং উত্তরবঙ্গের আদিবাসী নেতা প্রকাশ চিক বরাইক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) ঘরে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ধরে চলে এক অত্যন্ত গোপন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই এই তিন নেতার ক্ষোভ চরমে উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একরোখা সিদ্ধান্তের কারণে যেভাবে দল ডুবল, তা মেনে নিতে না পেরেই তাঁরা একে একে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। আর এবার সরাসরি বিজেপির সদর দফতরে তাঁদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল যে, কালীঘাটের সাজানো বাগান এখন পুরোপুরি খাঁ খাঁ।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই তিন হেভিওয়েট নেতাকে দলে টেনে এক ঢিলে একাধিক পাখি মারতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টি। একদিকে সুখেন্দুশেখরের মতো সংসদীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও পণ্ডিত মুখকে পাশে পাওয়া, অন্যদিকে সুস্মিতা দেবের মাধ্যমে আসাম ও ত্রিপুরার বাঙালি ভোটব্যাঙ্ককে বার্তা দেওয়া। একই সঙ্গে প্রকাশ চিক বরাইকের হাত ধরে উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটকে আরও মজবুত করতে চাইছে পদ্মশিবির। এই বৈঠকের পর জোর গুঞ্জন, ফাঁকা হওয়া রাজ্যসভার উপনির্বাচনে এই তিন পদত্যাগী নেতাকেই কি এবার বিজেপির টিকিটে দিল্লির টিকিট দেওয়া হবে? শমীক ভট্টাচার্যের মৃদু হাসি সেই জল্পনাকেই আরও উস্কে দিয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুখেন্দুশেখর রায় সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য, “গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে। বাংলার মানুষ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা ব্যালটে স্পষ্ট। সঠিক সময়ে সব জানতে পারবেন।” অন্যদিকে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার দাবি, তৃণমূল এখন একটি ডুবন্ত জাহাজ, যার চালক নিজেই দিকভ্রান্ত। গুটিকয়েক দলদাস ছাড়া মমতার পাশে আর কেউ নেই। খুব শীঘ্রই এক মেগা জনসভায় এই তিন প্রাক্তন সাংসদ আনুষ্ঠানিক ভাবে পদ্মফুলের পতাকা হাতে তুলে নেবেন বলে গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর।