চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙের ব্যবহার রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করল কলকাতা হাই কোর্ট। বাজারে বিকল হওয়া মাছ, মাংস, সবজি থেকে শুরু করে মিষ্টি ও পানীয় – নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি খাদ্যবস্তুতেই ভেজাল মেশানোর অভিযোগ তুলে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতেই রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতে পেশ করা সরকারি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০১৯ সালে খাদ্য সুরক্ষা সূচকে পশ্চিমবঙ্গ সারা দেশের মধ্যে যেখানে ১৫তম স্থানে ছিল, বর্তমানে তা অভাবনীয় উন্নতি ঘটিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তি এবং জেলা স্তরে নজরদারি বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। রিপোর্টটি খতিয়ে দেখার পর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, রাজ্যের এই প্রচেষ্টায় তারা সন্তুষ্ট এবং বর্তমানের এই স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।
মামলা নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি আদালত স্বাস্থ্য দপ্তরকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ:
খাদ্যপণ্যের গুণগত মান ও শুদ্ধতা পরীক্ষা নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভেজালের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে কর্মীর ঘাটতি থাকা চলবে না। শূন্যপদ থাকলে দ্রুত নিয়োগ করতে হবে যাতে নজরদারি প্রক্রিয়া কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।
রাজ্যের পরিকাঠামো ও বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্যের কৌঁসুলি আদালতকে জানান, বর্তমানে জেলা, ব্লক ও পুরসভা স্তরে মোট ১৭৬ জন ফুড সেফটি অফিসার নিয়োজিত আছেন। এছাড়াও উচ্চপদস্থ আরও ৩১ জন আধিকারিক নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। প্রতি মাসে নিয়ম মেনে প্রতিটি এলাকা থেকে অন্তত ২৫টি করে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।
পরিকাঠামোর উন্নতির কথা উল্লেখ করে রাজ্য জানায়, বর্তমানে রাজ্যে ৩০টি মোবাইল পরীক্ষাগার (Mobile Lab) চালু রয়েছে, যা সরাসরি এলাকায় গিয়ে খাদ্যের মান পরীক্ষা করতে পারে। একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব চালু হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও ৩টি স্থায়ী ল্যাবরেটরি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের এই ইতিবাচক রিপোর্টে খুশি হয়ে আদালত জনস্বার্থ মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেয়।