চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আমেরিকা এবং ইরান সংঘাতের জেরে সোমবারও কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বাতিল করা হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক উড়ান। দমদম বিমানবন্দর সূত্রে খবর, পাঁচটি নামী উড়ান সংস্থার মোট কুড়িটি বিমান এদিন চলাচল করেনি। এর মধ্যে এমিরেটসের আটটি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজের চারটি করে এবং এয়ার আরাবিয়া ও ফ্লাই দুবাইয়ের দুটি করে আসা-যাওয়ার বিমান বাতিল রয়েছে। দুবাই, দোহা বা আবু ধাবির মতো বিমানবন্দরগুলি বিশ্বের অন্যতম ট্রানজিট হাব হওয়ায় ইউরোপ বা আমেরিকাগামী যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
কেবল কলকাতাই নয়, দিল্লির পাশাপাশি বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলিতেও বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে হামলার পর থেকেই গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুবাইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি হয়েছে, তেমনই ভিনদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের ভিসার মেয়াদ ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্র। বিদেশে আটকে থাকা নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বা সিসিএস জরুরি বৈঠক করেছে। রবিবার রাতে দিল্লি ফিরেই নরেন্দ্র মোদী এই বৈঠকে যোগ দেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। যুদ্ধের আবহে ভারতীয়দের দ্রুত উদ্ধার করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ভারতে আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছে বিদেশ মন্ত্রক। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে পর্যটকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে বা যারা আপতত ভারতেই থাকতে চাইছেন, তাঁদের সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক।