চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর ‘নীলবাড়ি’ অর্থাৎ নবান্ন হাতছাড়া হয়েছিল আগেই। এবার তার ঠিক এক মাসের মাথায় তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে ফসকে গেল কলকাতার ‘লালবাড়ি’ বা পুরসভাও। বুধবার রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তৃণমূলের অন্দরের খবর, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে গিয়ে একপ্রকার জোরাজুরি করেই ইস্তফা দেওয়ার অনুমতি আদায় করে নিয়েছেন তাঁর একদা অত্যন্ত বিশ্বস্ত এই সেনাপতি। বিধানসভায় ঋতব্রতর দল ভাঙার দিনেই ফিরহাদের এই আকস্মিক পদত্যাগ ঘাসফুল শিবিরের কফিনে শেষ পেরেক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বুধবার সকালে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ডাকা কলকাতা ও আশেপাশের জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নবান্নের সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠক শেষ করে বাইরে বেরনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজভবন ও পুরসভার অলিন্দে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর পদত্যাগের খবর।
১৫ বছরের চেনা সমীকরণ ভেঙে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দেওয়া এবং তার পরপরই কলকাতার প্রথম নাগরিকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো, এই দুই ঘটনার সংযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তৃণমূলের এই চরম অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে মুখ খুলেছেন দলেরই আর এক বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করে জানান, এই মুহূর্তে কলকাতা পুরসভার ভেতরে স্বাধীনভাবে কোনও কাজ করা যাচ্ছিল না। চারদিক থেকে আসা নানাবিধ চাপ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার কথাই তৃণমূলনেত্রী মমতাকে জানাতে গিয়েছিলেন ফিরহাদ।
কুণাল ঘোষের কথায়, “নেত্রী প্রথমে ববিদাকে পদত্যাগ করতে বারণ করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ফিরহাদ মেয়রের পদে থাকুন। কিন্তু ফিরহাদ নেত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই পরিস্থিতিতে পুরসভা চালানো অসম্ভব এবং তিনি এবার সম্মানের সঙ্গে এই দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি চান। ফিরহাদের এই অনড় মনোভাব দেখার পরেই শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি দিতে বাধ্য হন।”
কলকাতার মেয়র পদের এই শূন্যতা এবং পুরসভার নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়া ছাব্বিশের বাংলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে আরও বড় সঙ্কটের মুখে ফেলে দিল। নতুন সরকার আসার পর যেভাবে কলকাতার ‘লালবাড়ি’র রাশ আলগা হল, তা আগামী দিনে কলকাতার পুর-প্রশাসনে এক বিশাল রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।