ad
ad

Breaking News

Election Commission

পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য সুখবর, এবার অনলাইনে শুনানির পথে কমিশন

যদি তিনি অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক বা কর্মী হন তাহলে সে ক্ষেত্রে যিনি মালিক তার সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ফোন নম্বর দিতে হবে।

Election Commission to Allow Online Hearings

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: সশরীরে হাজিরার পরিবর্তে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক অথবা ভিন রাজ্যে বা ভিনদেশে পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্রে যুক্ত যোগ্য ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে নয়া সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিকভাবে রাজ্য সিইও দফতরের পরামর্শে ঠিক হয়েছে একটি নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিক বা ভিন রাজ্য অথবা ভিনদেশে থাকা যোগ্য ভোটাররা অনলাইনে শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বা তাদের নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণপত্র কমিশনের কাছে পাঠাতে পারবেন (Election Commission)। 

যদিও শুনানি পর্ব চালু থাকার মধ্যেই পোর্টাল তৈরি করে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে কমিশন কর্তাদেরই। সেক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভাবে পৃথক whatsapp তৈরি করে সরাসরি পরিযায়ী শ্রমিক অথবা ভিন রাজ্য বা ভিনদেশের যোগ্য ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের বিকল্প পরামর্শ।

প্রাথমিকভাবে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক এবং ভিন রাজ্য বা ভিন দেশে থাকা যোগ্য ভোটারদের মিস ম্যাচ বা লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সিইও দপ্তর। সেক্ষেত্রে ওই ভোটার একটি নির্দিষ্ট এপ্লিকেশনের মাধ্যমে পোর্টালে তার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা এবং তিনি যে সংস্থায় কাজ করেন তার বিশদ বিবরণ লিপিবদ্ধ করবেন।

যদি তিনি অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক বা কর্মী হন তাহলে সে ক্ষেত্রে যিনি মালিক তার সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ফোন নম্বর দিতে হবে। যে ঠিকানায় তিনি ভোটার হতে চান তার নির্দিষ্ট বিবরণ বিশদে দিতে হবে ওই ভোটারকে। রাজ্যের স্থায়ী ঠিকানায় যেখানে তিনি ভোটার হতে চান সেই ঠিকানায় বর্তমানে তার নিকট আত্মীয় যিনি থাকবেন তার বিশদ বিবরণ, ফোন নম্বর উল্লেখ করতে হবে সেই নির্দিষ্ট পোর্টালে। এক্ষেত্রে ই-সিগনেচার বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আধার কার্ডের মাধ্যমে সিগনেচার ভেরিফিকেশন ছাড়াও ওই ভোটারকে ডিজিটাল সিগনেচার করে ওই পোর্টালে লিপিবদ্ধ করতে হবে (Election Commission)।

সেক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন ই-কিয়স্কের সাহায্য নিতে পারেন বলেও পদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তারা আই পোর্টালের মাধ্যমে আই ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের জন্য কথাও বলতে পারবেন। রাজ্যে নিযুক্ত কমিশনের স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ” রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক অথবা ভিন রাজ্য বা ভিন দেশে থাকা যোগ্য ভোটারদের জন্য যারা এনুমারেসন ফর্ম পূরণ করলেও মিসম্যাচ বা লজিকাল ডিসক্রিপ্যানসির আওতায় রয়েছেন তাঁরা যাতে সশরীরে হাজিরা এড়িয়ে সুষ্ঠুভাবে শুনানি পর্বে অংশ নিতে পারেন তার জন্যই এই বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও কমিশনের কাছে এটা এখনো প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। কমিশন সবুজ সংকেত দিলে দ্রুত সেই ব্যবস্থা কার্যকরী করা হবে।”

এই পোর্টাল ইআরও নেট-এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে যাতে বিএলও, ইআরও থেকে কমিশন সরাসরি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন সুব্রতবাবু। যদিও নির্বাচন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া করা যায় কিনা তা ভেবে দেখতে বলেছে সিইও দপ্তরকে। তবে রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন ” whatsapp পরিষেবা ইআরও নেটের সঙ্গে কতটা যুক্ত করা যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে পোর্টাল হোক বা whatsapp সবটাই এখনও প্রস্তাব আকারে রয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” যদিও শুনানি পর্ব শেষ হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। তবে কমিশনের সবুজ সংকেত পেলে গোটা প্রক্রিয়া একদিনের মধ্যে প্রস্তুত করে পরিযায়ী শ্রমিক এবং ভিন রাজ্য বা ভিনদেশের যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে এ বিকল্প প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করা যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সিইও (Election Commission)।