ad
ad

Breaking News

Abhishek Banerjee

তোলাবাজির টাকায় অভিষেকের চাটার্ড বিমান ভাড়া? কলকাতার ৫ জায়গায় ইডির হানা!

হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাটের, ওদিকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিতে চোখ ইডি আধিকারিকদের!

Abhishek Banerjee Chartered Flight Row

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজকীয় চাটার্ড বিমানের বিপুল খরচের উৎস কী? তোলাবাজি ও কাটমানির টাকাতেই কি আকাশপথে উড়তেন যুবরাজ? এই সব বিস্ফোরক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার খাস কলকাতায় অল-আউট অ্যাকশনে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সাতসকালে কলকাতার বুক চিরে একযোগে পাঁচ-পাঁচটি হাই-প্রোফাইল জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

তৃণমূল কংগ্রেস দ্বিধাবিভক্ত হওয়ার পর থেকেই দলের কয়েক হাজার কোটি টাকার তহবিল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে তুমুল টানাটানি শুরু হয়েছে। এই চরম ডামাডোলের মাঝেই মঙ্গলবার সকালে কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট, নিউটাউন এবং সল্টলেকের একাধিক কর্পোরেট অফিস ও বিলাসবহুল আবাসন ঘিরে ফেলে ইডির আলাদা আলাদা দল। তদন্তকারীদের মূল নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। ইডি সূত্রের দাবি, সল্টলেকের একটি নির্দিষ্ট কর্পোরেট সংস্থা এবং তার ডিরেক্টরদের অ্যাকাউন্ট থেকে দিনের পর দিন অভিষেকের চাটার্ড বিমানের রাজকীয় ভাড়া মেটানো হতো। সেই বিপুল অর্থের সঙ্গে তৃণমূলের নিজস্ব তহবিলের কী যোগ এবং এই লেনদেনের নেপথ্যে হাওয়ালা চক্র কাজ করছিল কি না, তা খুঁজে বের করতেই এদিনের এই মেগা অপারেশন।

হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাটের, ওদিকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিতে চোখ ইডি আধিকারিকদের!

উল্লেখ্য, ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্কে চিঠি লিখে পূর্বতন তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জোরদার আইনি লড়াই চলছে। মঙ্গলবারও হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়েছে কালীঘাট শিবির, কারণ আদালত তাদের জরুরি শুনানির আবেদন বারংবার খারিজ করে দিয়েছে। ঠিক এই আইনি সংকটের মাঝেই তৃণমূলের সমস্ত ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং কাটমানির হদিস পেতে ইডির এই আকস্মিক হানা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

“তোলাবাজির টাকায় আকাশভ্রমণ”, ঋতব্রত ও বিজেপি বিধায়কের অভিযোগে সিলমোহর?

ইডির এই অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে দুই হেভিওয়েট নেতার মারাত্মক অভিযোগ। ‘আসল’ তৃণমূলের প্রধান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যেই দাবি করেছিলেন যে, অভিষেকের বিলাসবহুল চাটার্ড বিমানের ভাড়া আসত সাধারণ মানুষের থেকে লুঠ করা সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির কালো টাকা থেকে। অন্যদিকে, বিজেপির এক প্রভাবশালী বিধায়কও কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে লিখিত অভিযোগ জানান যে, তৃণমূলের দলীয় অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার অবৈধ কাটমানি ঢুকেছে। এই সমস্ত অভিযোগের সারবত্তা যাচাই করতে এবং খরচের উৎস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে ডিরেক্টরদের ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। মঙ্গলবারের এই তল্লাশিতে কোনও মেগা তথ্য বা ডায়েরি উদ্ধার হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।