চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ডুয়ার্সের নাম শুনলেই সকলের চোখের সামনে সবুজের সমারোহ ভেসে ওঠে। কিন্তু এই ডুয়ার্সেই সকলের অগোচরে লুকিয়ে আছে অচেনা অজানা ঐতিহ্য (Dooars Heritage)। ডুয়ার্সের হেরিটেজ পর্যটনকে তুলে ধরার জন্য অনন্য পরিকল্পনা করেছে রাজ্যর পর্যটন দফতর। আলিপুরদুয়ার জেলায় ডুয়ার্সের চিলাপাতা জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে আছে নল রাজার দুর্গ। ভগ্নপ্রায় প্রাচীন দুর্গর মেরামতি আর ওপেন এয়ার আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়াম তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে পর্যটন দফতর। ঐতিহ্যকে বজায় রেখে পর্যটক মহলে দাগ কাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জলদাপাড়া জাতীয় অভয়ারণ্যের ভেতরে কোর এরিয়ায় চিলাপাতা জঙ্গলের ভেতরে রয়েছে নল রাজার ভগ্নপ্রায় দুর্গ। প্রাচীন দুর্গর বয়স প্রায় দেড় হাজার বছর পুরনো। আনুমানিক গুপ্ত যুগের সময়কার এই দুর্গ। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প ও জলদাপাড়া জাতীয় অভয়ারণ্যর মধ্যে হাতিদের যাতায়াতের করিডর হল চিলাপাতা জঙ্গল (Dooars Heritage)। ঘন জঙ্গলে বসবাস করে বহু বন্য পশুপাখি।
নল রাজার দুর্গর অপর নাম হল নল রাজার গড়। অনেকে মনে করেন, দুর্গটি আসলে কোচ রাজা নরনারায়ণ ভূপ বাহাদুরের প্রধান সেনাপতি চিলা রায়ের বাঙ্কার হিসাবে ব্যবহার করা হত। বক্সা দুর্গ ছাড়া আলিপুরদুয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান হল নল রাজার গড়। এর ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্ব অসীম। ভগ্নপ্রায় প্রাচীন নল রাজার দুর্গর আজ শুধু দুর্গর প্রবেশপথ ও ইটের দেওয়াল কোনোমতে টিকে আছে। একদিকে রয়েছে সিঁড়ি ও ঘাটের কিছু নিদর্শন।
চিলাপাতা জঙ্গলের ভেতর নল রাজার দুর্গকে মনে করা হত প্রাচীন কামতাপুর রাজ্যর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সম্প্রতি ডুয়ার্স কন্যা প্রশাসনিক ভবনে জেলাশাসক আর বিমলা, আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক তথা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল, আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক সরিত কুমার চৌধুরী ও লোকসংস্কৃতি গবেষক প্রমোদ নাথ বৈঠক করেন। জলদাপাড়ার জীববৈচিত্র্যকে নষ্ট না করে নল রাজার দুর্গর মেরামতির (Dooars Heritage) ওপর জোর দেন সুমন কাঞ্জিলাল।
বিষয়টি বিধানসভাতে তোলার পর তিনি ব্যক্তিগত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানান। সুমন কাঞ্জিলাল, হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্পেশাল সেক্রেটারি অম্লানজ্যোতি সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন নবান্নে। মিউজিয়ামের জন্য রাজ্যর পূর্ত দফতর, বন দফতর ও হেরিটেজ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে বিশদ প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করা হবে (Dooars Heritage)।
কীভাবে যাবেন?
নিউ আলিপুরদুয়ার (২৬ কিমি) ও হাসিমারা (১৬ কিমি) হল চিলাপাতায় পৌঁছনোর সবচেয়ে কাছের রেলস্টেশন। কলকাতা থেকে নিউ আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত একাধিক ট্রেন রয়েছে। স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে জঙ্গল ক্যাম্পে পৌঁছে যাওয়া যায়। অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত জঙ্গল পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে।