চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আইপ্যাক (I-PAC) দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) অভিযানের প্রতিবাদ এবার আছড়ে পড়ল দেশের রাজধানীতে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে নজিরবিহীন হেনস্থার মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্রের মতো হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধিদের কার্যত চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
I strongly condemn the shameful and unacceptable treatment meted out to our Members of Parliament. Dragging elected representatives on the streets for exercising their democratic right to protest outside the Home Minister’s office is not law enforcement – it is arrogance in…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 9, 2026
তিনি সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের সংসদ সদস্যদের প্রতি যে লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ করা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়াটা আইন প্রয়োগ নয়, বরং এটি উর্দি পরা ঔদ্ধত্য। এটি একটি গণতন্ত্র, বিজেপির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
গণতন্ত্র ক্ষমতাসীনের সুবিধা বা আরাম অনুযায়ী চলে না। যখন বিজেপি নেতারা প্রতিবাদ করেন, তখন তারা লাল গালিচা এবং বিশেষ সুবিধা আশা করেন। আর যখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের কণ্ঠস্বর তোলেন, তখন তাদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, আটক করা হয় এবং অপমান করা হয়। এই দ্বৈত নীতি বিজেপির গণতন্ত্রের ধারণাকেই উন্মোচন করে দেয় – যা হলো ভিন্নমত নয়, বরং আনুগত্য।
এটা স্পষ্ট হোক: সম্মান পারস্পরিক। আপনি আমাদের সম্মান করবেন, আমরাও আপনাকে সম্মান করব। আপনি যদি আমাদের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান, তবে আমরাও আপনাকে সহনশীলতা, ভিন্নমত এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সাংবিধানিক ধারণার দিকে ফিরিয়ে আনব। এটি আমাদের ভারত। আমরা জন্মসূত্রে নাগরিক, কোনো চেয়ার, ব্যাজ বা ক্ষমতার পদের দয়ার পাত্র নই। কোনো সরকার, কোনো দল এবং কোনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যে একটি গণতন্ত্রে কে মর্যাদার যোগ্য।”
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দিল্লির ‘কর্তব্য পথ’-এর ১ নম্বর গেট অর্থাৎ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রবেশপথের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন আটজন তৃণমূল সাংসদ। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, সাকেত গোখলে ও মমতা ঠাকুরের মতো দলের প্রথম সারির নেতারা। তাঁদের হাতে থাকা পোস্টারে বড় বড় হরফে লেখা ছিল— ‘একদিকে ইডি-বিজেপি, অন্যদিকে বাংলার জনতা’। সাংসদদের সরাসরি অভিযোগ, অমিত শাহের নির্দেশেই তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় নথি ‘চুরি’ করতে ইডি এই অভিযান চালিয়েছে।
সাংসদরা ধরনায় বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধাসেনা সেখানে পৌঁছায়। হাই-সিকিউরিটি জোন ও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তাঁদের দ্রুত সরে যেতে বলা হলে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। বচসা চলাকালীনই দিল্লি পুলিশ সাংসদদের জোর করে সরানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছায়। অভিযোগ ওঠে, মহিলা সাংসদদেরও রেয়াত করেনি পুলিশ। শতাব্দী রায় ও মমতা ঠাকুরদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কার্যত চ্যাংদোলা করে এবং টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারী আটজন সাংসদকেই পুলিশ আটক করে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে গেছে।
দিল্লির এই ঘটনা নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। আইপ্যাক-কাণ্ড নিয়ে ইডি-র অতিসক্রিয়তা এবং দিল্লিতে সাংসদদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ— এই দুই ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মুখ্যমন্ত্রী।