ad
ad

Breaking News

Cybercrime

বাংলায় সাইবার অপরাধের রমরমা! নতুন নির্দেশিকা জারি করল পুলিশ

সাইবার অপরাধের দৌরাত্ম্যে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।

Cybercrime on the rise in Bengal! Police issue new guidelines

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: সাইবার অপরাধের দৌরাত্ম্যে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। কলকাতা পুলিশ কমিশনার (CP) মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন, গত এক বছরে অনলাইন প্রতারণার কারণে রাজ্যের সাধারণ মানুষ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা খুইয়েছেন। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেও বহু মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পুলিশের ধারণা, প্রতারিতদের সবাই থানায় অভিযোগ জানান না। তাই প্রকৃত ক্ষতির অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে। পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, এই পরিমাণ ১৩০০ কোটি টাকা ছুঁতে পারে।

সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে শুধুমাত্র রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মানুষ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা হারিয়েছেন, যেখানে শুধু কলকাতায় ক্ষতির অঙ্ক ২৭৩ কোটি টাকা।

রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের ২০২৪-২৫ বাজেট ছিল ১৩৭৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। তার মানে, সাইবার অপরাধে যে টাকা খোয়া গিয়েছে, তাতে দ্বিগুণ মেয়েকে কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতায় আনা যেত।

সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ৯ মাসে সাইবার প্রতারণায় ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অর্থবর্ষ শেষে এই অঙ্ক ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রতারণা— এই দু’টি পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি টাকা খুইয়েছেন রাজ্যের বাসিন্দারা।

টাকা ফেরানোর উপায় কী?

তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, সাইবার প্রতারণায় খোয়া যাওয়া টাকার মাত্র ১০ শতাংশই উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। তাই পুলিশের পরামর্শ, প্রতারণার শিকার হলে দেরি না করে দ্রুত থানায় অভিযোগ জানানো দরকার।

পুলিশের নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

  • থানায় গিয়ে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে (National Cyber Crime Reporting Portal) অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে।
  • দ্রুত অভিযোগ করলে খোয়া যাওয়া টাকা ‘ব্লক’ করা সম্ভব, ফলে প্রতারকরা অন্য অ্যাকাউন্টে তা সরিয়ে নিতে পারবে না।
  • প্রতারণার শিকার ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব থানায় যেতে হবে, কারণ প্রতিটি মিনিট মূল্যবান।

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশ যেমন কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন হতে হবে। নাহলে অনলাইন প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।