চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কয়লা পাচার কাণ্ডে নয়া মোড়। কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের বয়ানে এবার বিজেপির এক প্রভাবশালী নেতার নাম জড়িয়ে যাওয়ার খবর সামনে এল। মঙ্গলবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। এই গ্রেফতারির পরই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, ধৃতদের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা বিজেপির ওই শীর্ষ নেতার কাছে পৌঁছে যেত।
সামনেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন, তার ঠিক আগেই ইডির এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। গ্রেফতার হওয়া চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। তদন্তকারীদের দাবি, বাম আমল থেকে অবৈধ কয়লা কারবারের মাধ্যমে তাঁরা প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করেন। শুধু কয়লা নয়, বালি পাচারের সিন্ডিকেটও তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ। পুরুলিয়া ও রানিগঞ্জের বাসিন্দা এই দুই ব্যক্তির অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইতিপূর্বে প্রচুর নগদ টাকা ও পাচার সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ধৃত দুজনেই এই পাচার সিন্ডিকেটের আর্থিক এবং অপারেশনাল কাজকর্ম সামলাতেন। বিশেষ করে প্রভাবশালীদের কাছে ‘প্রটেকশন মানি’ বা সুরক্ষার বিনিময়ে সংগৃহীত অর্থ পৌঁছে দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন তাঁরাই। কুণাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী, ধৃতদের বয়ানে যে বিজেপি নেতার নাম এসেছে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইডি। তবে ওই নেতা ইতিমধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লিতে তদ্বির শুরু করেছেন বলেও তিনি সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর সরাসরি জিজ্ঞাসা, ইডি কি শেষ পর্যন্ত বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে, নাকি দিল্লি থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়লা পাচার মামলায় শাসক দলের নেতাদের নাম জড়িয়ে পড়া নিয়ে এতদিন যে চাপ ছিল, এই নতুন তথ্য সামনে আসায় তা এখন বিরোধীদের দিকেও ঘুরে গেল।