Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে তৃণমূলের ঐতিহাসিক ভাঙন ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের পর যে ‘সই-কাণ্ড’ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল, তা এবার সরাসরি পৌঁছে গেল কলকাতা পুরসভার মেয়রের ড্রয়িং রুমে। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর নির্দেশে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির তদন্তে নেমেই শুক্রবার সন্ধেয় এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ করল সিআইডি (CID)। কলকাতা বন্দরের হেভিওয়েট বিধায়ক তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের চেতলার বাসভবনে আচমকাই পৌঁছে যান সিআইডি-র দুঁদে তদন্তকারীরা। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং রেজোলিউশন কপিতে বিধায়কদের জাল সই করার এই হাই-প্রোফাইল মামলায় ফিরহাদকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতেই গোয়েন্দাদের এই হানা বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নির্ধারণ করার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দু’দিনের অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রথম থেকেই সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তাই সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আসলে কী ঘটেছিল, তা মেয়রের চেয়ে ভাল আর কেউ বলতে পারবেন না।
তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন, ঠিক কাদের উপস্থিতিতে এবং কাদের অনুপস্থিতিতে ওই রেজোলিউশন কপিতে বিধায়কদের সই করানো হয়েছিল? যে ৫৮ জন বিধায়ক পরে ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দিয়ে দাবি করেছেন যে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে, সেই সইগুলি আসলে কার নির্দেশে এবং কার কলম থেকে হয়েছিল? এই সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এবং ভেতরের খবর জানতেই এদিন ফিরহাদ হাকিমের মুখোমুখি হয়েছেন সিআইডি কর্তারা।
স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ইতিমধ্যেই এই সই জালিয়াতির মামলাটি সিআইডি-র হাতে তুলে দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, আইন অমান্যকারীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। আর সিআইডি তদন্তভার হাতে নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খোদ ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে পৌঁছে যাওয়ায় আদি তৃণমূল শিবিরের অন্দরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জালিয়াতির পেছনে দলেরই কোনও শীর্ষ নেতার হাত রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান গোয়েন্দাদের। শুক্রবার সন্ধের এই হাই-ভোল্টেজ জিজ্ঞাসাবাদের পর সিআইডি-র ডায়েরিতে নতুন কোনও প্রভাবশালীর নাম যুক্ত হয় কি না এবং ছাব্বিশের বাংলার এই রাজনৈতিক যুদ্ধ আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।