চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে বড়সড় স্বস্তি পেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তাঁর প্রস্তাবিত প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি দিয়েছে আদালত, তবে একই সঙ্গে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই মিছিল গড়িয়া শীতলা মন্দির অথবা শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বাইপাস ধরে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত যেতে পারবে। তবে কোনোভাবেই থানার ২০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ করা যাবে না। মিছিলে সর্বোচ্চ ২০০০ সমর্থক থাকতে পারবেন এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়ার জন্য মাত্র ৫ জন প্রতিনিধিকে থানায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আদালতের লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকালেই আনন্দপুরের নাজিরাবাদে পোড়া জতুগৃহ পরিদর্শনে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পল, শঙ্কুদেব পণ্ডা, সুব্রত ঠাকুর এবং নীলাদ্রিশেখর দানার মতো বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। নাজিরাবাদে ১৬৩ ধারা জারি থাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি থাকলেও শুভেন্দু সাফ জানান যে তিনি আইন মেনেই দূর থেকে এলাকা দেখবেন। সেখানে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এখানে একবারও না এসে রাজধর্ম পালন করেননি। তিনি কেবল দুর্গত মানুষের পাশে থাকতেই সেখানে গিয়েছেন।
অন্যদিকে, নাজিরাবাদের সেই ধ্বংসস্তূপের ছবি এখনও অত্যন্ত করুণ। গত রবিবারের অগ্নিকাণ্ডের পর চেনা সেই গুদাম আর কারখানার ভিড় এখন নীরব হাড় হিম করা এক শ্মশানে পরিণত হয়েছে। এখনও বাতাসে পোড়া গন্ধ এবং চারিদিকে স্বজনহারাদের হাহাকার। উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশ এতটাই বিকৃত যে তা চেনার কোনো উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে মৃতদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে আজ থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিএনএ ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হতে পারে বলে খবর। এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পরেই দেহগুলো পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।