চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যের শাসনভার পরিবর্তনের চূড়ান্ত দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি। বুধবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নবান্নে এসে আগামী দিনের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ সকাল ১০টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিকভাবে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে চলেছে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “আমরা সরকারের প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দিয়েছি। আগামী ৮ মে বিকেল ৪টেয় বিধায়ক দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে।”
তৃণমূলি সংস্কৃতিতে ইতি?
শপথ গ্রহণের আগে দলের নীতি নিয়ে কোনও রাখঢাক করেননি রাজ্য বিজেপি সভাপতি। শমীক ভট্টাচার্য এদিন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, “আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, এই বিজেপির কোনওভাবেই তৃণমূলীকরণ হবে না।” দলের নীতি ও আদর্শ বজায় রেখেই যে সরকার চালানো হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
কঠোর হুঁশিয়ারি আইনশৃঙ্খলায়
নির্বাচনী ফলাফলের পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজেপি নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, “কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন। আমরা পুলিশকে বলে দিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বাংলায় ভয়ের বাতাবরণ সরিয়ে ভরসার পরিবেশ তৈরি করাই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া, রাজ্যে কিছু কিছু জায়গায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ লাগানোর চেষ্টা চলছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে বিজেপি কঠোর সতর্ক রয়েছে এবং যারা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঐতিহাসিক শপথের মঞ্চ ব্রিগেড
৯ মে-র শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ওইদিন ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কৃত বিশিষ্টজনদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। সবমিলিয়ে, তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে বাংলা এক নতুন অধ্যায়ের দিকে পা বাড়াতে চলেছে, তা এই শপথ গ্রহণের মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট হতে চলেছে। এখন শুধু ৯ই মে-র অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।