চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কলকাতার রাজনৈতিক আকাশে পরিবর্তনের রঙ স্পষ্ট হতেই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে শুরু হয়েছে গণ-ইস্তফার পালা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী তাঁদের বিশেষ উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থও ইস্তফা দিয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর। যদিও মনোজ পন্থের পদত্যাগের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদত্যাগ ছিল একপ্রকার অবধারিত। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী দুজনেই অবসর নেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছায় বিশেষ গুরুত্বসহ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এই পদের মর্যাদা ছিল কার্যত সরকারের প্রধান সচিব পদের সমতুল্য। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, এই দুই আমলা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এতটাই আস্থাভাজন ছিলেন যে তাঁদের পদপ্রাপ্তিকে অনেকেই ‘পুরস্কার’ হিসেবে দেখতেন। ফলে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতেই তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া সঙ্গত বলে মনে করেছেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো সময়ের মেলবন্ধন। মঙ্গলবার যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে ঘোষণা করছেন যে তিনি এখনই ইস্তফা দেবেন না, ঠিক তার আগেই আলাপন-দ্বিবেদীরা তাঁদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি নবান্নের অন্দরেও শুরু হয়েছে বড় পরিষ্কার অভিযান। যে সমস্ত আধিকারিকরা অবসরের পর ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ বা ওএসডি হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তাঁদের সকলকেও পদ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা ইতিমঝ্যেই বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছেন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, তাঁর দপ্তরে কতজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসার ওএসডি পদে কাজ করছেন তা অবিলম্বে জানাতে হবে এবং তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। মুখ্যসচিবের এই নির্দেশের পর মঙ্গলবার বিকালের মধ্যেই একাধিক ওএসডি পদমর্যাদার আধিকারিক তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে খবর। ফলে নতুন সরকার আসার আগেই নবান্নের পুরনো প্রশাসনিক কাঠামোয় যে বড়সড় ধস নামল, তা বলাই বাহুল্য।