চিত্র- সংগৃহীত
AK Bangla Desk: শারদোৎসবের আবহ কাটার পরপরই রাজ্যজুড়ে বাজতে চলেছে পুরযুদ্ধের দামামা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুজো মিটলেই কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, সঙ্গে নির্বাচন হতে পারে রাজ্যের বাকি বকেয়া পুরসভাগুলিতেও। বিধানসভা দখলের পর এবার কলকাতা ও হাওড়া পুরবোর্ড দখল করে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে মরিয়া ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে ভোটে লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে জল্পনার মাঝেই নতুন জোটসঙ্গী এনসিপিআই-কে (NCPI) নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক বয়ান রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঘটনাচক্রে, তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজেপির পাশে দাঁড়ানো ২০ জন সাংসদ নতুন দল ‘এনসিপিআই’ গঠন করে জাতীয় স্তরে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন দিয়েছেন। জল্পনা ছিল, আসন্ন পুরভোটে বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধেই লড়বে এই এনসিপিআই। কিন্তু বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন, “এনসিপিআই নতুন একটি রাজনৈতিক দল। তারা দিল্লিতে এনডিএকে সমর্থন করছে ঠিকই, তবে কলকাতায় সেই সমীকরণ পৌঁছাতে সময় লাগবে। বাংলায় বিজেপি কারও দয়ায় শক্তি বৃদ্ধি করেনি। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীরা নিজেদের শক্তিতেই কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম জয় করতে সক্ষম।”
জোটের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নস্যাৎ না করে রাজনীতিতে দর কষাকষির দরজা খোলা রাখলেও শমীক ভট্টাচার্যের এমন চাঁচাছোলা মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তৃণমূল ত্যাগী ওই ২০ জন সাংসদ এখনও সংসদে পৃথক ব্লক হিসেবে সম্পূর্ণ স্বীকৃতি পাননি। উল্টে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে এবং শীর্ষ আদালত থেকে তাঁদের নামে নোটিসও পাঠানো হয়েছে। এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেই বিজেপি রাজ্য সভাপতির ‘একলা চলো’ ইঙ্গিত নতুন জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে কলকাতা পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯-এ, অর্থাৎ নতুন ৬৫টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করা হয়েছে। এই বর্ধিত ও নতুন পুনর্বিন্যস্ত ওয়ার্ডের ওপর ভিত্তি করেই পুজোর পর মহাযুদ্ধে নামছে রাজ্য বিজেপি। শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও, নিজেদের শক্তিতেই কলকাতার দখল নিতে প্রস্তুত গেরুয়া শিবির।