ad
ad

Breaking News

Mamata Banerjee

বারুইপুর ইস্যুতে মিছিলের অনুমতি পেল মমতা, তবে কড়া শর্ত হাই কোর্টের

কর্মসূচি ২ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করতে হবে

Mamata Banerjee Calcutta High Court Allows With Conditions

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বারুইপুর-কাণ্ড-সহ একাধিক ইস্যুতে কলকাতায় মিছিলের অনুমতি চেয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদনে সাড়া দিল আদালত। তবে অনুমতি মিললেও একগুচ্ছ শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, কর্মসূচি ২ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। মিছিলে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনওরকম বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। পাশাপাশি, মিছিলে ১০০০ জনের বেশি অংশ নিতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আদালত। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে প্রশাসন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক করা হয় আরও তিনজনকে। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। রবিবার মৃতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

এর মধ্যেই বারুইপুর-কাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার কালীঘাটে মোমবাতি মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ৮ জুলাই কলকাতার বুকে মিছিল করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। শর্তসাপেক্ষে সেই মিছিলে অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মিছিল শুরু হবে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে এবং শেষ হবে হাজরা মোড়ে। সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য একটি লেন খোলা রাখতে হবে। দুপুর আড়াইটে থেকে শুরু করে বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যেই কর্মসূচি শেষ করতে হবে। তবে মমতার এই কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সমালোচকদের দাবি, তৃণমূল জমানায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনা ঘটলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। পার্কস্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি থেকে অভয়া-কাণ্ড—প্রতিটি ঘটনায় তাঁর মন্তব্য ও অবস্থানকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কখনও ঘটনাকে ‘ছোট’ করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে, কখনও নির্যাতিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভয়া-কাণ্ডের প্রতিবাদে যখন রাজ্যজুড়ে মানুষ পথে নেমেছিলেন, তখন সেই আন্দোলনকেও ‘হুজুগ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি—এমন অভিযোগও তুলছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, ক্ষমতা হারানোর পর বারুইপুর-কাণ্ডকে সামনে রেখে নতুন করে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকেও তিনি রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছেন বলেই দাবি করছেন সমালোচকরা।