চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শনিবার বিকেলে কলকাতার চিংড়িঘাটা এলাকায় নির্মীয়মাণ মেট্রো প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, আগের সরকার সম্পূর্ণভাবে উন্নয়নের বিরোধী ছিল এবং প্রতিটি পদক্ষেপে কাজে বাধা সৃষ্টি করত, তাঁর দাবি, চিংড়িঘাটা মেট্রোর গুরুত্বপূর্ণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছিল তৃণমূল কারণ তারা প্রকৃত উন্নয়ন চায়নি, অথচ কলকাতা মহানগরের গণপরিবহন ও সার্বিক অগ্রগতির জন্য মেট্রো প্রকল্প যে অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ, তা এদিন তিনি স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শনিবার সকালে কলকাতায় পা রেখেই বাংলার থমকে থাকা রেল ও মেট্রো প্রকল্পগুলোর দ্রুত রূপায়ণে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কলকাতায় পৌঁছেই তিনি রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে রাজ্যের রেল পরিকাঠামোর ভোল বদলে দেওয়ার মতো বিপুল অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়েছে, বিগত ৫ বছরে মেট্রোসহ বিভিন্ন রেল প্রকল্পে যেখানে মোট ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে নতুন সরকারের আমলে শুধু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্যই রেকর্ড ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার বাংলায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার মেগা রেল প্রকল্পের কাজ হতে চলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে লাগাতার ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ ভাব থাকার কারণে বাংলায় রেলের সামগ্রিক উন্নয়ন থমকে ছিল, তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই সমস্ত জটিলতা ও সমন্বয়ের সমস্যা এবার পুরোপুরি মিটে যাবে।
এদিন বিকেলে ইএম বাইপাস সংলগ্ন চিংড়িঘাটা এলাকায় নির্মীয়মাণ মেট্রো প্রকল্পের কাজ সশরীরে খতিয়ে দেখতে যান রেলমন্ত্রী। সেখান থেকেই বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। অশ্বিনী বৈষ্ণব সরাসরি অভিযোগ তোলেন, “বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পুরোপুরি উন্নয়নের বিরোধী ছিল এবং প্রতিটি পদে পদে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করত।” তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, তৃণমূলের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই চিংড়িঘাটার মেট্রো প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়েছিল। এমনকি এই কাজ আটকে রাখার জন্য তৎকালীন রাজ্য সরকার আদালতেও গিয়েছিল। পরবর্তীতে আদালত কাজ শুরুর নির্দেশ দিলেও নানা টালবাহানায় তা শুরু করতে দেওয়া হয়নি।
রেলমন্ত্রী অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সদিচ্ছার জেরে এতদিনের থমকে থাকা জটিল কাজ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। চিংড়িঘাটার মেট্রো জট মাত্র কয়েক দিনে কেটে যাওয়াই প্রমাণ করে যে, সদিচ্ছা থাকলে কত দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব। নতুন ডবল-ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে কলকাতা ও গোটা রাজ্যের মেট্রো ও রেলের পরিকাঠামো এবার এক নতুন গতি পেতে চলেছে বলেই এদিন আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী।