ad
ad

Breaking News

ASHA Workers Protest West Bengal

আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযানে ধুন্ধুমার! শিয়ালদহ থেকে সল্টলেক—পুলিশি বাধায় রণক্ষেত্র পরিস্থিতি

বিক্ষোভকারীরা গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ASHA Workers Protest West Bengal

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: রাজ্য জুড়ে আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে বুধবার চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বকেয়া টাকা মেটানো এবং ন্যূনতম মাসিক ১৫ হাজার টাকা সাম্মানিক বেতনের দাবিতে দীর্ঘ ২৯ দিন ধরে কর্মবিরতি চালাচ্ছেন আশাকর্মীরা। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বুধবার স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল তাঁদের। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি থেকে কয়েক হাজার আশাকর্মী এদিন শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে ভিড় করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, স্টেশনে নামার পর থেকেই পুলিশ তাঁদের ঘেরাও করে ফেলে এবং বাইরে বেরোতে বাধা দেয়। অনেককে জোর করে ফিরতি ট্রেনে তুলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। দীর্ঘক্ষণ টানাপড়েনের পর পুলিশি বেষ্টনী পেরিয়ে কিছু বিক্ষোভকারী সল্টলেকের উদ্দেশে রওনা দিলেও অনেকেই আটকে পড়েন। পুলিশের এই ভূমিকার প্রতিবাদে ডোমজুড়, ডেবরা এবং হিঙ্গলগঞ্জের মতো এলাকায় রাস্তা অবরোধ ও থানা ঘেরাও করেন কর্মীরা। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের জেরে যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

জেলায় জেলায় পুলিশি ধরপাকড়ের চিত্রও সামনে এসেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় বাস ও ট্রেন থেকে নামিয়ে প্রায় ৬০ জন আশাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁর সহকর্মীরা। আসানসোল, রানিগঞ্জ, অন্ডাল ও দুর্গাপুরেও বহু কর্মীকে বাসে আটকে রাখা হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের এই তৎপরতার জেরে বিভিন্ন এলাকায় সারাদিন দফায় দফায় উত্তেজনা বজায় থাকে।

সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবন চত্বরেও এদিন ছিল কড়া নিরাপত্তা। প্রধান ভবনে যাওয়ার রাস্তায় আগেভাগেই লোহার ব্যারিকেড দিয়ে পাঁচিল গড়ে তোলে পুলিশ। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি মাইকিং করে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শয়ে শয়ে আশাকর্মী ব্যারিকেডের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেখানেই অবস্থানে বসে পড়েন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা মাঠ ছাড়বেন না।

অন্যদিকে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, আশাকর্মীদের ভুল বুঝিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশাকর্মীদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল এবং সরকার তাঁদের জন্য কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন। বিরোধীদের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে সরকারকে ভরসা রাখার জন্য তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।