ad
ad

Breaking News

Arup Biswas

মেসি-কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসকে তলব! হাজিরার আগেই অসুস্থ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী, ক্ষুব্ধ আয়োজক শতদ্রু

এই মুহূর্তে আইনি রক্ষাকবচহীন প্রাক্তন মন্ত্রীকে যে কোনও সময় পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল

Arup Biswas Former Sports Minister Seeks More Time

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে টিকিট কালোবাজারি ও প্রতারণার মামলায় এবার নাটকীয় মোড়। বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে হাজিরার নোটিস পেতেই আচমকা ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ জুন অর্থাৎ আজ, বৃহস্পতিবার থানায় হাজিরার নির্দেশ থাকলেও বুধবার রাতেই থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে আপাতত আগামী দুই সপ্তাহের সময় চেয়ে নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বারাসত আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে আইনি রক্ষাকবচহীন প্রাক্তন মন্ত্রীকে যে কোনও সময় পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গত ১৭ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে নতুন করে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিলেন মেসির ‘গোট টুর’ (GOAT Tour)-এর মূল আয়োজক তথা ক্রীড়া উদ্যোগপতি শতদ্রু দত্ত। অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩(৫), ৩০৮(২), ৩১৮(৪), ৩৫১(২) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

শতদ্রু দত্তর অভিযোগ, মেসির ওই হাইপ্রোফাইল ইভেন্টের প্রায় ২২ হাজার টিকিট নিজের প্রভাব খাটিয়ে হাতিয়ে নিয়েছিলেন এবং পরে সেগুলির কালোবাজারি করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আয়োজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি, চাঁদাবাজি এবং প্রতারণা করার অভিযোগও আনা হয়েছে। শতদ্রুর দাবি, আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙে, কোনও অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক মেসির সুরক্ষাবলয় গলে তাঁর কাছাকাছি চলে যান অরূপ বিশ্বাস। এমনকি ফুটবল সম্রাটের গায়ে হাত দিয়ে ছবি তোলার হিড়িক তৈরি করেন, যা আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছিল এবং মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছিল। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে আজ, ৪ জুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল। কিন্তু হাজিরা এড়াতে বুধবার রাতেই থানার দ্বারস্থ হয়ে তিনি জানান, আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আগামী দুই সপ্তাহ তাঁর পক্ষে থানায় আসা সম্ভব নয়। দুই সপ্তাহ পর তিনি নিজের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে আইনি দিক থেকে প্রাক্তন মন্ত্রীর ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচতে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের যে আবেদন তিনি করেছিলেন, তা ইতিমধ্যেই খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলে পুলিশের হাত থেকে বাঁচার মতো কোনও আইনি ঢাল এই মুহূর্তে তাঁর কাছে নেই।

অরূপ বিশ্বাসের এই ‘আচমকা অসুস্থতা’র খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মামলাকারী শতদ্রু দত্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি লেখেন: “সমন আসতেই হঠাৎ অসুস্থতা! কিন্তু একটা কথা মনে রাখুন— মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো কিছুটা সময় কেনা যায়, কিন্তু বিচার থেকে পালানো যায় না। এতদিন সব ঠিকঠাক ছিল, আর পুলিশ ডাকতেই শরীর খারাপ হয়ে গেল! এটা কাকতালীয় ঘটনা হতেই পারে, তবে আইনের লম্বা হাত থেকে পালানোর পথ এটা নয়।”