চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাই কোর্টের বেঁধে দেওয়া রুট এবং শর্তাবলি মেনেই এই মিছিলটি আয়োজিত হয়। তবে শোকাতুর এই ঘটনার প্রতিবাদ মিছিলে ‘ডিজে’ বাজানো হয়েছে বলে দাবি। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মীরা। তাঁদের কথায়, এটাই নাকি বিজেপির সংস্কৃতি (Anandapur Fire)।
আদালতের অনুমতি নিয়ে আয়োজিত এই মিছিলটি এদিন নরেন্দ্রপুর থানার ২০০ মিটার দূরে শেষ হয় এবং সেখানে একটি সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ২৫ জনের প্রাণহানির মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপি কর্মীরা উচ্চৈঃস্বরে ডিজে বাজিয়েছেন। এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ বলে কটাক্ষ করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশের বদলে উৎসবে মেতে ওঠা বিজেপির সংস্কৃতি।” যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি (Anandapur Fire)।
এদিকে, আনন্দপুরের নাজিরাবাদে পুড়ে যাওয়া কারখানা ও গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া ২৫টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন ডিএনএ (DNA) ম্যাপিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু করছে। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতায় দেহগুলো চেনার উপায় না থাকায় বৈজ্ঞানিক এই পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দেহগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের সামনে পরিবারগুলোর ভিড় এবং উদ্বেগ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে (Anandapur Fire)।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে জনপ্রিয় খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ওয়াও মোমো’-র। ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আগুনের উৎস তাদের কারখানা ছিল না, বরং পাশের গুদাম থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে নিহত তিন কর্মীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে তারা। এখনো ওই এলাকায় পোড়া গন্ধ আর ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন রয়ে গেছে, যা রবিবারের সেই বিভীষিকার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে (Anandapur Fire)।