চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। বিধানসভায় পরিষদীয় দলে ভাঙনের পর এবার নজর সংসদীয় দলের দিকে। সূত্রের দাবি, তৃণমূলের প্রায় ১৮ জন সাংসদ দল ছাড়তে পারেন। এই সম্ভাবনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ঠিক এই আবহেই হঠাৎ দিল্লি উড়ে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই অভিষেক দিল্লি গিয়েছেন। আগামী ৮ জুন, সোমবার বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হওয়ার কথা। ওই দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকের দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তাঁর রাজধানী সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—কেন এই তড়িঘড়ি দিল্লি যাত্রা?
রাজ্যের বিধানসভায় ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বড় অংশ ভেঙে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছে বলে সূত্রের খবর। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদীয় দলেও ভাঙনের আশঙ্কা ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্রের দাবি, আগামী সপ্তাহে লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাস’ শুরু হতে পারে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা এড়াতে হলে তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকে একসঙ্গে বেরিয়ে আসতে হবে। সেই সংখ্যা ১৮ থেকে ১৯। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, প্রয়োজনীয় সংখ্যা প্রায় নিশ্চিত।
এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। দল ভাঙন ঠেকাতে কি তাঁকে বিশেষ দূত হিসেবে পাঠানো হয়েছে? নাকি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগে দিল্লিতে সাংসদদের সঙ্গে আলাদা করে যোগাযোগ রাখাই তাঁর লক্ষ্য? এমন একাধিক প্রশ্ন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। এর মধ্যেই ৮ জুন সই জালিয়াতি বিতর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করেছে সিআইডি। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি ১০ দিনের সময় চেয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। সিআইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, সোমবারই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সিআইডি হাজিরার আগেই কেন দিল্লি গেলেন অভিষেক? তদন্তের চাপ এড়াতেই কি এই সফর, নাকি সংসদীয় দলের সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে আগেভাগে সক্রিয় হল তৃণমূল নেতৃত্ব? আপাতত এই প্রশ্নগুলিকেই ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।