চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর যখন একদিকে ৫৮ জন বিধায়ক নিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়তে বিধানসভায় হুলুস্থুলু কাণ্ড বাঁধাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা, ঠিক তখনই আইনি বিপাক থেকে বাঁচতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিধানসভার বহুল চর্চিত ‘সই জাল’ কেলেঙ্কারিতে এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। সিআইডি-র (CID) পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি, এই তদন্তে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা যাতে তাঁকে কোনওভাবেই গ্রেফতার না করতে পারে, সেই মর্মে আদালতের কাছে আইনি ‘রক্ষাকবচ’ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাসে এই জরুরি আবেদনটি করা হয়। বিচারপতি ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। প্রাথমিক সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবারই এই মেগা মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই মেলা সংক্রান্ত জালিয়াতির তদন্তে নেমে গত সোমবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল সিআইডি। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় এক নজিরবিহীন বিপত্তি। গত রবিবার সোনারপুরে নিহত এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে মারাত্মক জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়, চলে ধাক্কাধাক্কি।
এই ঘটনার পরই তীব্র শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাড়িতেই শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। সোমবার সিআইডি দফতরে হাজিরা না দিয়ে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন জমা দিয়ে রাজ্য গোয়েন্দাদের কাছে ১৫ দিনের বাড়তি সময় চান অভিষেক। কিন্তু দমে না গিয়ে সেই সোমবারই সিআইডি আধিকারিকরা সরাসরি হানা দেন অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে। নিরাপত্তারক্ষীদের আপত্তি উড়িয়ে গোটা বাড়ির ভিডিওগ্রাফি করা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের হাতে একটি নতুন নোটিস ধরানো হয়। গোয়েন্দাদের এই অতি-সক্রিয়তা দেখেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, অভিষেকের গ্রেফতারি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। আর সেই আশঙ্কা থেকেই তড়িঘড়ি আদালতের সুরক্ষাকবচ চাইলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সই কাণ্ডই এখন তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক হতে চলেছে। এই কেলেঙ্কারির জেরেই আজ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রায় ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় স্পিকারের কাছে দল ভাঙার চূড়ান্ত চিঠি জমা দিচ্ছেন, যার ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে চলে যেতে পারে ‘আসল তৃণমূল’-এর তকমা ও জোড়াফুল প্রতীক। এই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দলে একঘরে হয়ে পড়ার আবহে নিজের স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবার আইনি লড়াইকেই পাখির চোখ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী শুক্রবার বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাস থেকে তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ স্বস্তি পান নাকি তাঁর বিপদ আরও বাড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।