চিত্র- AI
Bangla Jago Desk: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সম্পত্তি এবং তাঁর সংস্থা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Lips and Bounds)-এর বেআইনি নির্মাণ বিতর্ক এবার পৌঁছাল দেশের উচ্চ আদালতে। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি স্মিতা দাস দে এই হাই-প্রোফাইল মামলায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি এবং তাঁর সংস্থার সম্পত্তির ঠিক কোন কোন অংশে অনুমোদিত নকশার বিচ্যুতি বা অবৈধ নির্মাণ রয়েছে, তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট নথি-সহ আদালতকে জানাতে হবে কলকাতা পুরসভাকে (KMC)। একই সঙ্গে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, ওই সম্পত্তিগুলিতে আদৌ কোনও অবৈধ অংশ রয়েছে কি না এবং থাকলে তা কতটা, সে বিষয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে সম্পত্তির মালিকদেরও। ৪ সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
কলকাতার ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত, এই দাবি করে কলকাতা পুরসভার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সম্প্রতি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতির অভিযোগ ছিল, নিয়ম মেনে তৈরি বাড়িতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেআইনি নির্মাণের নোটিস ঝোলানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার নিজের কালীঘাট রোডের বাড়ি থেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তিনি অভিযোগ করেন, “পুরসভা নোটিস ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল যে এই অংশটা অবৈধ! কিন্তু আমার ডিভিয়েশন কোন অংশে, তার কোনও ব্রিফ বা অ্যাটাচমেন্ট দিল না। নোটিস যারা দিয়েছে এবং যারা বেছে বেছে মিডিয়ার কাছে এগুলো লিক করছে, উত্তর তাদের দিতে হবে।” এর পরেই আদালতের দ্বারস্থ হয় তাঁর পরিবার।
পুরসভা সূত্রে খবর, শুধু হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট নয়, কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে থাকা অভিষেক ও তাঁর সংস্থার নামে থাকা একাধিক সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। প্রথম দিকে দুটি বাড়ির কথা জানা গেলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে মোট ১৭টি সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে অভিষেকের বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের সম্পত্তিও রয়েছে। অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।
এই নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে সপ্তাহখানেক আগে কলকাতা পুরসভার কাছে নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি ছিল, পুরসভা যে সব তথ্য জানতে চেয়েছে, তা তারা দিতে প্রস্তুত, তবে তার জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। কিন্তু বুধবার হাই কোর্টের এই ৭ দিনের কড়া ডেডলাইনের পর কলকাতা পুরসভা এবং বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার আইনি লড়াইয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।