চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে নজিরবিহীন হামলার শিকার হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনার পর চোট গুরুতর না হওয়ায় কলকাতার দুটি বেসরকারি হাসপাতাল তাঁকে ভরতি না নিলেও, বর্তমানে বাড়িতেই বেশ অসুস্থ শরীরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। দলীয় সূত্রে খবর, রবিবার সকাল থেকেই প্রচণ্ড শারীরিক অস্বস্তি ও বমি বমি ভাব রয়েছে তাঁর। বর্তমানে বাড়িতেই চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে চলছে স্যালাইন ও কড়া ব্যথানাশক ওষুধ। আর এই খবরের মাঝেই রবিবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটেই অভিষেককে দেখতে তাঁর হরিশ মুখার্জী রোডের বাড়িতে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পর গভীর রাত পর্যন্ত অভিষেকের বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবারও সাংসদের শারীরিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবং তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা থাকায় চিকিৎসকেরা তাঁকে সম্পূর্ণ ‘বেড রেস্ট’ বা শয্যাশায়ী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন। বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় রবিবার বিকেলে আর গাড়ি না নিয়ে, পায়ে হেঁটেই ভাইপোর শারীরিক অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নিতে তাঁর বাসভবনে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন অভিষেক। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই উন্মত্ত জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিষেককে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ডিম ও ইটের টুকরো ছোঁড়া হয়, দেওয়া হয় ‘চোর’ স্লোগান। এমনকী, ধস্তাধস্তিতে তাঁর গায়ের জামা পর্যন্ত ছিঁড়ে যায়। কোনওমতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে কলকাতায় নিয়ে আসে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই হামলার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের জেলায় জেলায় তৃণমূলের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। এই প্রতিবাদে শামিল হতে গিয়ে হুগলির চণ্ডীতলায় আক্রান্ত ও রক্তাক্ত হয়েছেন অপর তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অন্য দিকে, সোনারপুরের এই ঘটনার তদন্তে নেমে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই ৫ জন মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই হামলার পেছনে কোনও গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছে প্রশাসন। তবে ঘরের সেনাপতির এই আচমকা অসুস্থতায় এই মুহূর্তে চরম উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে।