Bangla Jago Desk: শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজারের মেছুয়া বাজারে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪ জন। আগুন লাগে ফলপট্টির এক হোটেলে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে। একজন আতঙ্কে কার্নিশ থেকে ঝাঁপ দিতে গিয়ে প্রাণ হারান।
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি লেখেন, “বড় বাজার এলাকার একটি বেসরকারি হোটেলে (ঋতুরাজ) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আমার হৃদয় কাঁদছে।
আমি সারা রাত ধরে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ অভিযান পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এলাকায় সর্বাধিক দমকল বাহিনীকে মোতায়েন করেছি। ভেতরে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় শেষ পর্যন্ত মোট ১৪ জন মারা গেছেন। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকলের প্রতি আমার সংহতি”।
My heart goes out to the victims of the fire incident that took place at a private hotel (Rituraj) in Burra Bazar area.
I monitored the rescue and fire fight operations throughout the night and mobilised maximal fire brigade services in the area. 14 died eventually in total…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) April 30, 2025
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হোটেলটিতে ৪৭টি ঘর ছিল, যার বেশিরভাগেই জানলা ছিল না। ফলে ধোঁয়া বের হতে না পেরে ভিতরে আটকে যায়। দমকলের ১০টি ইঞ্জিন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর আগুন কিছুটা আয়ত্তে আসে। হাইড্রোলিক ল্যাডারের সাহায্যে ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। এখনও হোটেলের ভিতরে রয়েছে কিছু পকেট ফায়ার। আগুন পুরোপুরি নেভেনি বলেই জানিয়েছেন দমকল আধিকারিকরা।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের কাজে রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের মালিক ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাঁর খোঁজে তদন্তে নেমেছে পুলিশ এবং গঠন করা হচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। আজ সকালে ঘটনাস্থলে যাবেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও।
এই দুর্ঘটনা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফের একবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার অভাব ছিল। প্রশাসনের তরফে শুরু হয়েছে তদন্ত।