ad
ad

Breaking News

US Deployment

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় আরও ১০০০ সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা

আমেরিকার অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে

US Deploys Troops Amid Iran Peace Talks Sparks Debate

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর তা নিয়ে আমেরিকার অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানা গিয়েছে, পেন্টাগন প্রায় এক হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন সেনার অন্যতম এলিট ইউনিট ৮২ এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদস্যরা। গত ১৮ মার্চ এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছে— আমেরিকা কি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে? পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, এই সেনা মোতায়েনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে ঠিক তখনই, যখন ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে এবং ইতিবাচক সাড়া মিলছে।

যদিও ওয়াশিংটনের তরফে এ-ও জানানো হয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিশ্চিত হলেও, তাঁদের কোথায় মোতায়েন করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে এই সেনারা নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্রাগে অবস্থান করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক বিকল্পকেও গুরুত্ব দেন। ফলে আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতি সমান্তরালভাবে এগোচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, এর আগেই জানা গিয়েছিল যে পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত নৌসেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন রণতরী ইউএসএস বক্সার ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পাশাপাশি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড এবং ইউএসএস ত্রিপোলি-কেও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

সূত্রের খবর, ইরানের কাছে ১৫ দফা শর্তও পেশ করেছে আমেরিকা। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ রাখা। এই দুই শর্ত আগেও মার্কিন দাবির শীর্ষে ছিল এবং এবারও তা বজায় রাখা হয়েছে। ইরান এই প্রস্তাব মানবে কি না, তা নিয়েই এখন কৌতূহল আন্তর্জাতিক মহলে। এক দিকে কূটনৈতিক আলোচনার বার্তা, অন্য দিকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি— আমেরিকার এই দ্বৈত কৌশল ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, সেদিকেই নজর বিশ্বরাজনীতির।