চিত্র- AI
Bangla Jago Desk: বিশ্বজুড়ে চলা ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেই ভারতের জন্য বড়সড় উদ্বেগের খবর। ভারত-সহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা (US Tariff On India)। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হলেও, বিষয়টি নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করতে নারাজ দিল্লি। এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ় প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনও দ্বিপাক্ষিক স্তরে কথা চলছে এবং এই শুল্কের বিষয়টি একেবারেই চূড়ান্ত নয়। আমেরিকার বাণিজ্য দফতর মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ আইনের ‘ধারা ৩০১’ (Section 301)-কে হাতিয়ার করে এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর রূপরেখা তৈরি করেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রম বা ‘ফোর্সড লেবার’ (Forced Labor)-এর বিনিময়ে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি মার্কিন বাজারে নিষিদ্ধ করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। মার্কিন প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী, শুল্কের বিন্যাসকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১০ শতাংশ শুল্ক: যে সমস্ত দেশ জোরপূর্বক শ্রম-ভিত্তিক আমদানির ওপর আংশিক বা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাদের ওপর এই হার প্রযোজ্য হতে পারে।
১২.৫ শতাংশ শুল্ক: যে দেশগুলি এই ধরনের শ্রমভিত্তিক পণ্যের আমদানি রুখতে কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ব্যবস্থা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ওপর এই সর্বোচ্চ হারের শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতের নাম এই তালিকাতেই রয়েছে।
আমেরিকা যে ৬০টি দেশের ওপর এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানোর খসড়া তৈরি করেছে, তার মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির একাধিক বড় শক্তি। ভারতের পাশাপাশি এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক রাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাণিজ্য যখন এমনিতেই ধুঁকছে, সেই আবহে ট্রাম্প সরকারের এই সংরক্ষণবাদী নীতি ভারতীয় রফতানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া করেছে। আমেরিকার এই প্রস্তাব সামনে আসার পরেই ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সাউথ ব্লকের দাবি, আমেরিকার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্তরে সক্রিয় হয়েছে ভারত। বাণিজ্য মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে: “মার্কিন আইনের ৩০১ ধারা কার্যকর করার বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুসারে উভয় দেশের মধ্যে একটি সামগ্রিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।”